সাফল্য দিয়ে সমালোচনাকে জয় করতে চান, জামদানি মেলার ইমু আহমেদ

Emu Ahmed Jamdani Mela 1

দেশীয় ঐতিহ্যবাহী জামদানী শাড়ী আমাদের সকলের নিকট অতি প্রিয়। এই শাড়ীর কদর সবার কাছে শত বছর ধরে টিকে থাকলেও, এখন তা বেশ কঠিন সময় পার করছে। সুতার দাম বৃদ্ধি, কারিগরদের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া, দিন দিন কারিগরদের সংখ্যা কমে যাওয়া, বিদেশী শাড়ীর দৌড়াত্ব ইত্যাদি কারণে জামদানী শাড়ী এখন হুমকির মুখে। এত বাধা সত্ত্বেও কেউ কেউ এই শিল্পটিকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন ও এটি নিয়ে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। তাদেরই একজন হলেন জামদানী মেলা ডট কম এর ইমু আহমেদ। তার সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে উঠে আসে অনেক কথা।

Emu Ahmed Jamdani Mela 2দেশীয় ঐতিহ্যবাহী জামদানী শাড়ি নিয়ে আপনাদের অনলাইন বিজনেসে আসার শুরুটা হল কিভাবে?
ইমু আহমেদ: মূলত দেশীয় পণ্যের প্রতি দুর্বলতা থেকেই আমাদের ব্যবসায়িক ভাবনার সূত্রপাত। যদিও আমরা নারায়ণগঞ্জ এর তবুও জামদানি নিয়ে কাজ শুরু করে দেয়াটা আমাদের জন্য মোটেও সহজ ছিল না। জামদানি শাড়ি তৈরি করতে দেখা এক বিষয়, আর ব্যবসায়িক চিন্তা করা ভিন্ন বিষয়। শুরুর দিকে আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল তুলনামূলক-ভাবে দক্ষ তাঁতি খুঁজে বের করা। আমরা শুধুমাত্র একটি ফেইসবুক পেইজ এর মাধ্যমে গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে আমাদের যাত্রা শুরু করি। যতদূর মনে পড়ে আমরা আমাদের ব্যবসায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করার কয়েক মাস আগে থেকেই ভালো তাঁতি ও শাড়ির খোঁজে নেমে পড়ি। আমরা রূপগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার তাঁতিদের বাড়িতে যাই। তাদের কাজ দেখি, তাদের সাথে মিশে তাদের মত করে জামদানি চেনার চেষ্টা করি। শীতের খেজুরের রস থেকে শুরু করে গ্রীষ্মের কাঠফাটা রোদ, বর্ষায় গ্রাম্য পরিবেশে বৃষ্টি বিলাস সবকিছুই আমরা উপভোগ করেছি আমাদের তাঁতিদের সাথে।

আপনাদের এই অল্পসময়ের চেষ্টায় কেমন সাড়া পাচ্ছেন ও ক্রেতাদের চাহিদা কি পূরণ করতে পারছেন?
ইমু আহমেদ: আমাদের ব্যবসায়ের বয়স অনুসারে আলহামদুলিল্লাহ্‌ খুব ভাল সাড়া পাচ্ছি। আমরা এই পর্যন্ত সরাসরি গ্রাহকদের পছন্দ করা ৫টি ডিজাইন এর শাড়ি করে দিয়েছি। নতুন বেশ কিছু অর্ডার এর কথা চলছে। আর নিজেদের জামদানি শাড়ির কালেকশন থেকে গত ঈদে ভাল সাড়া পেয়েছিলাম। আমাদের শাড়ি বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা সহ দেশের বাহিরেও পৌঁছে গেছে।

“আগামীতে চলার পথে আরও নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ আসবে জানি এখন সেগুলো মোকাবেলা করে, সাফল্য অর্জন করে নেয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য “

আপনারা জামদানী শাড়ির পাশাপাশি দেশীয় আর কি কি পণ্য নিয়ে কাজ করছেন?
ইমু আহমেদঃ জামদানি শাড়ি, পাঞ্জাবি, টু-পিস, থ্রি-পিস এর পাশাপাশি আমরা এখন নতুন করে ব্লক, বাটিক, হ্যান্ডপেইন্ট, স্ক্রিনপ্রিন্ট, নিজেদের হাতে বানানো চুড়ি, টাঙ্গাইল শাড়ি, তাঁতের শাড়ি নিয়ে কাজ শুরু করতে যাচ্ছি। আমরা ইতিমধ্যে আমাদের ব্লক, বাটিক এর কামিজ নিয়ে ভালো সাড়া পেয়েছি এমনকি এসব ড্রেস আমরা আমেরিকায় পাঠিয়েছি হোল সেল হিসেবে। আমাদের নিজেদের হাতে বানানো চুড়ি ঈদের মাঝেই গ্রাহকদের জন্য নিয়ে আসতে পারব বলে আশা করছি।

Emu Ahmed Jamdani Mela 3
আপানরা কিভাবে আপনাদের অনলাইন বিজনেস পরিচালনা করছেন?
ইমু আহমেদ: আমরা আপাতত আমাদের ফেসবুক পেজ www.fb.com/jamdanimela.bd থেকে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছি। আর আশা করছি ঈদুল আযহা এর মাঝেই আমাদের ওয়েব সাইট www.jamdanimela.com নিয়ে হাজির হতে পারব। বর্তমানে আমাদের ওয়েবসাইট এর কাজ চলছে।

ব্যবসায় তো অনেক মূলধন লাগে ও চলার পথে অনেক বাধা-চ্যালেঞ্জ আসে। সেগুলো মোকাবিলা করতে কোন সমস্যা হয়নি?
ইমু আহমেদ: নাম মাত্র মূলধন নিয়ে জামদানি মেলার কাজ শুরু করি। এখন ধীরে ধীরে ব্যবসায়ের পরিধি বাড়ছে। অনেক বড় বড় কিছু সিদ্ধান্ত নিচ্ছি জামদানি মেলার জন্য। আগামীতে চলার পথে আরও নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ আসবে জানি এখন সেগুলো মোকাবেলা করে, সাফল্য অর্জন করে নেয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমাদের ব্যবসায়ের শুরু থেকেই ই-ক্যাব আমাদের নানাভাবে সাহায্য করেছে। বিশেষ করে রাজিব ভাইয়া, আফজাল ভাইয়া, নাফিস ভাইয়া, ইসমাইল ভাইয়া আরও অনেকের প্রতি আমরা বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ।

Emu Ahmed Jamdani Mela 4আমাদের সমাজে নারীদের ব্যবসায় আসাকে পারিবারিক ভাবে অনেকেই সাপোর্ট করে না। তো আপনার ক্ষেত্রে এমন কোন ঘটনা কি ঘটেছে?
ইমু আহমেদ: অন্যসব মেয়েদের মতো পারিবারিক ভাবে তেমন কোন বাধা আসেনি আমার। বরং আমার স্বামী আমাকে ব্যবসায়ে অনেক সাহায্য করছে। আমার বাবা, মা এবং শাশুড়িও অনেক উৎসাহ দিচ্ছে আমার কাজে। অনার্স, মাস্টার্সে ফার্স্টক্লাস রেজাল্ট নিয়েও আমরা চাকুরী না খুঁজে নিজেরা ব্যবসায় শুরু করেছি। নানা মানুষের নানা কথাই শুনতে হচ্ছে এখন, কিন্তু আমি আমার সাফল্য দিয়ে সমালোচনাকে জয় করতে চাই।

দেশীয় পণ্য নিয়ে কাজ করার জন্য ও আমাদেরর সাথে সাক্ষাতকার দেয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

SHARE
বাংলাদেশে ই-কমার্স সেক্টরের বিকাশের পাশাপাশি এর সাথে জড়িত সকল ক্রেতা ও বিক্রেতাদের জন্য আলাদা একটি নিউজ মিডিয়া সময়ের চাহিদা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই ই-কমার্স সংক্রান্ত দেশ বিদেশের সকল সংবাদ আপনাদের কাছে পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে যাচ্ছে ইকমভয়েজ ডট কম।

১ টি মন্তব্য

  1. ধন্যবাদ। অনেক সুন্দর এবং গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা শেয়ার করার জন্যে।আপনার সার্বিক মংগল কামনা করছি।

মন্তব্য পোস্ট করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here