বিজনেস মাইন্ড সেটাপ নিয়ে দুটি কথা

Sohel-Mridha

সোহেল মৃধা //  বিজনেস হচ্ছে একটি সুপ্রাচীন জীবন-নির্বাহী পন্থা। যুগযুগ ধরে সমাজের একটি শ্রেণী নানাবিধ বিজনেসের সাথে জড়িত থাকতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। চাকরির বাজার আদিকাল থেকেই প্রতিযোগিতামূলক ছিল এবং বর্তমানে এই প্রতিযোগিতা আকাশচুম্বী তাই সমাজের বড় একটি অংশ ছোট–বড় বিভিন্ন বিজনেসের সাথে সম্পৃক্ত। এর কারণ এটির পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়ন থেকে শুরু করে সকল কার্যক্রম সম্পূর্ণ নিজস্ব ইচ্ছায় পরিচালনা করা যায়। তাই এটি স্বাধীনতাপ্রিয় মানুষের কাছে বেশ পছন্দের জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম। তাছাড়াও এখানে রয়েছে সম্পদের পর্যাপ্ততা এবং সমাজের একটি এক্সট্রা মান। তাই অনেকেই জীবনে একজন সফল বিজনেসম্যান হিসেবেই ক্যারিয়ার প্রতিষ্ঠিত করতে চায়।

বর্তমান বাজারেও আমরা একই চিত্র দেখতে পাই। জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় চাহিদাও বেড়েছে। আবার এদিকে চাকরির বাজারে পূর্ণ-প্রতিযোগিতা থাকায় এই বিশাল চাহিদার বাজারটি ধরতে প্রতিদিন অনেকেই বিজনেসে নামছেন। নানা শ্রেণী পেশার মানুষ তাদের নিজস্ব আইডিয়া এবং পরিশ্রম দিয়ে বিজনেসে টিকে থাকার সংগ্রাম করছেন।

বিজনেসের বাস্তবতা: কিছু শুরু করলেই তা থেকে সফলতা আসেনা তা বোধহয় আমরা সকলেই জানি। বিজনেসের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও ব্যাপক কার্যকর।

বিজনেসে সফল হতে গেলে আমাদের বিজনেস মাইন্ড সেটআপ, মূলধন, বিনিয়োগ করার সাহস এবং সঠিক পরিকল্পনা এবং তা বাস্তবায়ন সহ আরও দরকার শিক্ষা, বহুমুখী দক্ষতা, অধ্যবসায়, কর্ম – দক্ষতা, পরিশ্রম করার মানষিকতা, সততা, একাগ্রতা এবং আর অনেক কিছুই।

তবে বিজনেস করতে হলে একেবারে শুরুতেই যেটি লাগে তা হল বিজনেস মাইন্ড সেটআপ। আপনি যতক্ষণ পর্যন্ত সঠিক বিজনেস মাইন্ড সেটআপ নিজের ভিতর তৈরি না করতে পারবেন ততক্ষণ পর্যন্ত কোন স্ট্রেটেজিই আপনার বিজনেসকে সফলতার মুখ দেখাতে পারবেনা।

বর্তমানে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় এখন বিজনেসের বাজার ব্যাপক প্রতিযোগিতামূলক। তাই হুট-হাট করে বিজনেসে নেমে যাওয়া অনেকেই খুব তাড়াতাড়ি ঝরে পরছেন। বর্তমান বাজারে লক্ষ্য রাখলে দেখা যায় দিনশেষে গুটিকয়েক কোম্পানি (ছোট-বড়) টিকে থাকে। এর মুল কারণ বিজনেসের সঠিক গাইডলাইন ফলো না করেই বিজনেসে নেমে পরা। এই পূর্ণ- প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকতে হলে প্রতিযোগিতা করেই টিকে থাকতে হবে।

এই কঠিন কাজটি সফল করতে, দিনশেষে নিজের কোম্পানিকে লাভবান দেখানোর জন্য তাই আজ আপনাদের জন্য থাকছে বিজনেসের প্রথম স্তম্ভ বিজনেস মাইন্ড সেটআপ নিয়ে কিছু কথা এবং এটি কিভাবে নিজের ভিতর তৈরি করবেন সে বিষয়ক কিছু টিপস …

বিজনেস মাইন্ড সেটআপ গড়ে তোলার টিপস

কঠিন লক্ষ্য: আপনি একজন সফল বিজনেসম্যান হতে চাইলে প্রথমেই আপনাকে পরিপূর্ণভাবে মনস্থির করতে হবে যে আপনি বিজনেসটি করবেনই। বিজনেসে লাভ এবং লস উভয়েই বিদ্যমান তা জেনেই আপনাকে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে হবে।

সম্পূর্ণ চিন্তাতেই বিজনেসঃ বিজনেস মাইন্ড সেটিংসের একটি অন্যতম অংশ হচ্ছে আপনার চিন্তার মূল কেন্দ্রবিন্দুটি বিজনেস নির্ভর হওয়া। অর্থাৎ আপনাকে আপনার বিজনেস নিয়েই দিনের বেশিরভাগ সময় চিন্তা করতে হবে। আপনি যাই করেন তার সাথেই আপনার বিজনেসকে সম্পৃক্ত রাখার চেষ্টা করতে হবে।

নিজ সত্তাকেও দিতে হবে বিজনেসম্যানের রূপ: আপনার সত্তাকে একজন আদর্শবান বিজনেসম্যানের রূপ দিতে হবে চিন্তার মাধ্যমে। এরূপটা না হলে বিজনেসে সফল হওয়া কষ্টকর। যেমনঃ আপনি একজন ভালো কবির কাছে বসে তার দৈনন্দিন জীবন সম্পর্কে জানতে চান দেখবেন তিনি তার উত্তর দিচ্ছেন কবিতার ভঙ্গিতে। একজন ভালো খেলোয়াড় তার দিনের সিংহভাগ সময়ই ব্যয় করছে তার খেলার বিভিন্ন কৌশল রপ্ত করার জন্য। ঠিক তেমনই আপনাকেও আপনার মাধ্যমে লেগে থাকতে হবে, সময় দিতে হবে।এক কথায় ডেডিকেডেট থাকতে হবে আপনাকে।

কনফিডেন্টঃ আপনি আপনার বিজনেসে যখন কনফিডেন্ট থাকবেন তখন অটমেটিক্যালি বিজনেসে সফল হওয়ার পরবর্তী স্টেপগুলো কাজ করতে থাকবে।

হতে হবে পজিটিভ থিংকারঃ বিজনেস মাইন্ড সেটিংসের জন্য সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলীর একটি হচ্ছে ইতিবাচক চিন্তাধারা।এটি শুধু বিজনেস মাইন্ড সেটিংস ই নয় এটি আপনার বিজনেসকেও সফলতায় রূপ দিবে। এর জন্য সবসময় পজেটিভ চিন্তা করুন।আপনি আপনার বিজনেস সম্পর্কে বার বার নিজেকে প্রশ্ন করুন – আমি কি পারবো? উত্তর যখন স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে হ্যাঁ আসবে তখন আপনি আপনার বিজনেস মাইন্ড তৈরি করতে পেরেছেন এবং তারপরই আপনার বিজনেসে নামা উচিৎ।

বড় বড় বিজনেসম্যানরা এইরূপ কঠিন স্টেপ পার করেই আজ নিজ নিজ বিজনেসে সফলতার মুখ দেখেছেন। বিজনেসটাকে বুঝতে হবে, একাগ্রতার সাথে লেগে থাকতে হবে। তাহলে নিশ্চয় বিজনেসে সফলতা আসবে।

3 টি মন্তব্য

  1. “বিজনেসে লাভ এবং লস উভয়েই বিদ্যমান তা জেনেই আপনাকে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে হবে। ” ধন্যবাদ সোহেল ভাই।

মন্তব্য পোস্ট করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here