বাংলাদেশে উদ্যোক্তা ধারণার উৎস বা সূত্রের সংজ্ঞা

define sources of venture ideas in Bangladesh

সোহেল মৃধা // এর আগে আমি একজন ব্যবসায়ী বা সফল উদ্যোক্তা হতে চাইলে তাতে বিজনেস মাইন্ড সেটআপের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছি। আশা করি সে বিষয়ে সকলেই পরিষ্কার ধারণা পেয়েছেন।

তারই ধারাবাহিকতায় আজকে আপনাদের জন্য আলোচনা করছি বাংলাদেশে উদ্যোক্তা ধারণার উৎস ও সংজ্ঞা (define sources of venture ideas in Bangladesh) নিয়ে। উদ্যোক্তাদের জন্য এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট। তাই আর কথা না বাড়িয়ে চলে যাচ্ছি মূল আলোচনায়। নিচে বাংলাদেশে উদ্যোক্তা ধারণা ও উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত দেওয়া হলো।

আমার আজকের পোস্টে উদ্যোক্তা ধারণার পাশাপাশি আরও যা যা থাকবে –
১) বাংলাদেশের ব্যবসায় অর্থনৈতিক ধারণা
২) বাংলাদেশের প্রায় সকল ব্যাংক সম্পর্কে তথ্য এবং এগুলোর উদ্দেশ্য ও কার্যাবলী
৩) বাংলাদেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত তথ্য এবং এদের কার্যাবলী বিশ্লেষণ
৪) ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমূহ
৫) সরকারের বিভিন্ন নীতিমালা সংক্রান্ত তথ্য ও দলিলসমূহ
৬) বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য এবং এগুলোর উদ্দেশ্য ইত্যাদি।

বাংলাদেশে উদ্যোক্তা ধারণার উৎস ও সংজ্ঞা (define sources of venture ideas in Bangladesh)   

উদ্যোক্তা ধারণার গুরুত্বঃ
একজন উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে সফল করতে চাইলে ব্যবসা সম্পর্কে জানতে হয় নানাবিধ কৌশল। ধারণা থাকতে হয় বর্তমান বাজার, চাহিদা, পণ্য, উপযোগ ও সম্পদ সহ আরও অনেক বিষয়ে। আর এসব বিষয়ে জানতে হলে দরকার প্রচুর পড়াশুনার। সঠিক তথ্য সহকারে উদ্যোক্তা ধারনার উৎস সংক্রান্ত বই বাংলাদেশে তেমন পাওয়া যায় না। কিন্তু এটি হচ্ছে একজন উদ্যোক্তার সফলতার পেছনের মূল চাবিকাঠি। একটি সফল ব্যবসায় বা শিল্প প্রতিষ্ঠানের গোড়াপত্তনের চাবিকাঠি হলো বাস্তবসম্মত ধারণা, সঠিক জনবলের যোগার ও প্রাথমিক প্রয়োজনীয় মূলধন। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে একক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো সঠিক শিল্প ধারণার সূত্রপাত করা। যেখান থেকে একজন সম্ভাব্য উদ্যোক্তা একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ধারণা গ্রহণ করতে পারেন তাকে উদ্যোক্তা ধারণার উৎস বা সূত্র বলে। মনে রাখবেন – একটি দুর্বল ও অবাস্তব ব্যবসার ধারণা উদ্যোগের সফলতাকে সীমিত করে। তবে শুধু চলনসই ধারণাই একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের সফলতার জন্য যথেষ্ট নয়। কারণ – ধারণা হলো এক ধরণের মূলধন যা একজন মেধাবীর হাতেই সফলতার আলো ছড়ায়।

ধারণা কেন রাখবেন (প্রয়োজনীয়তা)
প্রত্যেক উদ্যোক্তারই জানার স্পৃহা থাকে অসীম। তাই বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নতুন উদ্যোক্তাদের এই ধারণাসমূহের উৎস সম্পর্কে আগ্রহী হতে হবে।নিজেদের উদ্যোগে নতুন ধারণা না থাকলে এখান থেকে আপনি আপনার ব্যবসায় নতুন কিছু প্রয়োগ করতে পারবেন এবং অন্যেরা তাদের ব্যবসায় যে ধারণা প্রয়োগ করছেন তার সাথে আপনার ধারণা যাচাই করতে পারবেন। মনে রাখবেন – ব্যবসায়িক তখনই যখন উদ্যোক্তাগণের সামনে কতগুলো বাস্তবসম্মত ধারণা থাকে। কারণ এগুলো তাদেরকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে এবং যার ফলে ব্যবসাতে আসে সফলতা।

বাংলাদেশে উদ্যোক্তাদের জন্য নানা উৎস রয়েছে যেখান থেকে তারা উদ্যোক্তা সংক্রান্ত ধারণা বা শিল্প ধারণা গ্রহণ করতে পারেন।এসব উৎস দুধরণের হয়ে থাকে। যেমনঃ

১) আনুষ্ঠানিক (formal)
২) অনানুষ্ঠানিক (Non-formal)

যে সমস্ত আনুষ্ঠানিক উৎস হতে উদ্যোক্তা বা শিল্প সংক্রান্ত ধারণা গ্রহণ করা যাবে তার বর্ণনা নিচে দেওয়া হলোঃ

                                                    আনুষ্ঠানিক (formal) উৎস

১) বাংলাদেশ সরকারের শিল্প মন্ত্রণালয়:
দেশের সার্বিক শিল্পোন্নয়নের দায়িত্বে রয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপর। দেশের বিনিয়োগ তালিকা প্রণয়ন ও  বাস্তবায়নের দায়িত্ব এ মন্ত্রণালয়ের ওপর ন্যস্ত রয়েছে।

(ক) শিল্পনীতিঃ নতুন শিল্প উদ্যোগ ধারণার এক প্রধান উৎস। এটি সরকারের অগ্রাধিকার সম্বন্ধে ধারণা দেয়। সরকারের শিল্পনীতি ঐ সব শিল্পসমূহকে আর্থিক ও অন্যান্য উৎসাহ প্রদান করে যেগুলো হলোঃ
i) রপ্তানি বৃদ্ধি করে
ii) লাভজনক আমদানি বিকল্প পণ্য উৎপন্ন করে
iii) দেশীয় উপাদান, কৌশল ও কারিগরি দক্ষতা ব্যাবহার করে ইত্যাদি।

(খ) বিনিয়োগ তফসিলঃ বিনিয়োগ তফসিল একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ধারণার উৎস যেখানে ব্যক্তি মালিকানায় শিল্প স্থাপনের জন্য উন্মুক্ত শিল্পসমূহের তালিকা দেওয়া হয়। এসব বিনিয়োগ তালিকায় বিনিয়োগ ক্ষমতার ব্যাবহার, পরিকল্পনাকালে আর্থিক বরাদ্দ ইত্যাদি বহুবিধ প্রয়োজনীয় তথ্যাদির উল্লেখ থাকে। যেখান থেকে একজন উদ্যোক্তা সহজেই নতুন ব্যবসায় ধারনা পেতে পারেন।

২) শিল্প বিভাগঃ শিল্প মন্ত্রণালয়ের শিল্প বিভাগ ব্যক্তি মালিকানায় ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান স্থাপনে উৎসাহ প্রদান ও বর্তমান শিল্পসমূহের উন্নয়নে দায়িত্বে নিয়জিত একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। এ বিভাগ নতুন শিল্প ধারনা সরবরাহ ছারাও দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ শিল্পের জন্য জমি পাওয়ার পদ্ধতি বিনিয়োগ সহায়ক প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি সম্পর্কে তথ্য দেয়।

৩) সরকারের অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও তাদের নীতিমালা সংক্রান্ত দলিল সমূহ:
ব্যবসা ও শিল্পোন্নয়নে সমন্বিত অগ্রগতির জন্য বিশেষ করে সরকারের শিল্পনীতি ও উদ্দেশ্যসমূহের মধ্যে সমন্বয় করার লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সরকারের অগ্রাধিকার প্রতিফলিত করে বার্ষিক আমদানি ও রপ্তানি নীতি প্রণয়ন করে থাকে। একইভাবে অর্থ মন্ত্রণালয় আয় ও ব্যয়ের খাত সমূহ উল্লেখ করে বার্ষিক রাজস্ব ও উন্নয়ন বাজেট ঘোষণা করে থাকে। আবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার দলিল সামগ্রিকভাবে সরকারের বৃহত্তর উদ্দেশ্যাবলীর প্রতিফলন ঘটায়। তাই ব্যবসায় নতুন ধারণার সূত্রপাত ঘটানোর ক্ষেত্রে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উল্লেখিত নীতিমালা সংক্রান্ত দলিলসমূহ প্রয়োজনীয় অবদান রাখতে পারে।

৪) বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সংস্থা ( বিএসসিআইসি )
ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পসমূহ প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে স্বায়ত্তশাসিত এ প্রতিষ্ঠানটি গঠিত হয়েছিল। উদ্যোক্তাদেরকে আর্থিক,কারিগরি,ও আইনগত তথ্য সংবলিত শিল্প ধারনা দিয়ে সেবা প্রদান করে থাকে। তাছাড়া উদ্যোক্তাগণ কোন শিল্পে অর্থ বিনিয়োগ করবে এ প্রশ্নের উত্তর  দানে সহায়তা করে থাকে। তাই নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য এটি একটি অন্যতম ধারণার উৎস এবং সার্বিক সহযোগী হিসেবে কাজ করবে নিশ্চয়।

৫) বাংলাদেশ বিনিয়োগ উপদেষ্টা কেন্দ্র ( আই এ সি বি )
বাংলাদেশে নতুন ব্যবসা বা শিল্প ধারণার জন্য বাংলাদেশ বিনিয়োগ উপদেষ্টা কেন্দ্রের সাথে যোগাযোগ করা যেতে পারে। কারণ এ কেন্দ্রের কাজই হচ্ছে বিভিন্ন ব্যবসা ও শিল্পে বিনিয়োগ সুবিধা বিচার করা। এই কেন্দ্রটি বাস্তবসম্মত অনেক শিল্প ও ব্যবসার ধারণা তৈরি করছে।

৬) বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক (Bangladesh shilpa bank)
বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক একটি উন্নয়ন ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান। ১৯৭২ সালের ৩১ এ অক্টোবর এ ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়।শিল্প ব্যাংকের প্রধান উদ্দেশ্যাবলীর মধ্যে আছে নতুন ব্যবসা বা শিল্পের জন্য ঋণ প্রদান,শিল্পের উন্নয়ন,আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণে ঋণ এবং পরামর্শ সেবা প্রদান করা। তাই নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য এটি একটি কার্যকরী প্ল্যাটফর্ম।

৭) বাংলাদেশ শিল্প ঋণ সংস্থা ( Bangladesh shilpa rin sangstha,BSRS  )
শিল্প ঋণ সংস্থা আদেশ ১৯৭২ এর রাষ্ট্রপতির আদেশ নং ১২৮, ১৯৭২ এর ক্ষমতা বলে তৎকালীন পাকিস্তান ইন্ডাস্ট্রিয়াল ক্রেডিট এন্ড ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন (PICIC)  ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (ICB) এবং ন্যাশনাল  ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্ট লিমিটেড এর সম্পত্তি ও দায় নিয়ে এই ব্যাংক গঠিত হয়।

*) বাংলাদেশ শিল্প ঋণ সংস্থা গঠনের উদ্দেশ্য ( objectives )
(ক) শিল্প প্রকল্প মেয়াদি ঋণ ও অন্যান্য আর্থিক সহযোগিতা দান
(খ) ব্যবসা বা শিল্প স্থাপনের জন্য পরামর্শ প্রদান
(গ) বিনিয়োগে উৎসাহ প্রদান
(ঘ)  প্রত্যন্ত অঞ্চলে নানা ধরণের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ও শিল্প স্থাপন করে শিল্পোন্নয়নের ভারসাম্য রক্ষা
(ঙ)  দেশি-বিদেশি তহবিল থেকে মূলধন গঠন

বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক ( BSB ) এবং বাংলাদেশ শিল্প ঋণ সংস্থা ( BSRS ) এর একীভূত ব্যাংক বাংলাদেশ ডেভলাপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড ( BDBL ) এর কার্যক্রম শুরু হয় ২০১০ সালের ৩ জানুয়ারি হতে এবং বিলুপ্ত হয় বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক ও বাংলাদেশ শিল্প ঋণ সংস্থা।

এই সংস্থার তথ্যাদি ঘাঁটলে একজন উদ্যোক্তা তার ব্যবসায় নলেজের চরম উন্নতি সাধন হবে।

৮) বাংলাদেশ পুঁজি বিনিয়োগ সংস্থা ( ICB )
ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন  অব বাংলাদেশ (ICB) অধ্যাদেশ নং ৪০, ১৯৭৬ বলে এ প্রতিষ্ঠান গঠিত হয়।দেশের দ্রুত শিল্পোন্নয়নের এবং সুষম পুঁজি বাজার বিশেষ করে সিকিউরিটি বাজার উন্নয়নে সরকার এটি প্রতিষ্ঠা করেন।

*) বাংলাদেশ পুঁজি বিনিয়োগ সংস্থা ( ICB ) এর উদ্দেশ্যঃ
(ক) বিনিয়োগ ক্ষেত্র সম্প্রসারণ ও উৎসাহ প্রদান
(খ) পুঁজি বাজার উন্নয়নে সহায়তা
(গ)  সঞ্চয় বৃদ্ধি ও লাভজনক খাতে বিনিয়োগ করা
(ঘ) বিনিয়োগ সংক্রান্ত সহায়তা দান করা

এখান থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায় সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যাবে যা থেকে একজন উদ্যোক্তা তার ব্যবসায় সফলতা সহজেই আনয়ন করতে পারেন।

৯) রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ ( nationalized commercial banks )
বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ক্ষুদ্র শিল্পের অর্থ সংস্থানের ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করে। এসব ব্যাংক সমূহ যেমনঃ সোনালী ব্যাংক,অগ্রণী ব্যাংক, রূপালি ব্যাংক স্বল্প ও মধ্যমেয়াদী ঋণ প্রদান করে। এরা শেয়ার ডিবেঞ্চার সিকিউরিটি ক্রয় করে ও মূলধন সরবরাহ নিশ্চিত করে। আবার কখনো কখনো দেশের স্বার্থে দীর্ঘমেয়াদী ঋণও প্রদান করে থাকে।

এসব ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ রাখলে দেশের তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে সকল শ্রেণীর জনগণের অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে সহজেই জানা যায়। যেখান থেকে একজন উদ্যোক্তা হিসেবে আপনি সহজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন এই মুহূর্তে আপনার কি ধরণের পলিসি নিয়ে ব্যবসায় নামা উচিৎ।

১০) বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো ( Bangladesh export promotion bureau )
রপ্তানি বৃদ্ধি এবং রপ্তানি বাণিজ্য উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো গঠিত হয়। বৈদেশিক বাণিজ্যে অনুকূল ভারসাম্য আনয়ন তথ্য বিশ্ববাজারে স্বদেশী পণ্যের বাজার সৃষ্টি করার লক্ষ্যে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো নিম্নবর্ণিত কার্যাবলী সম্পাদন করে থাকে।

(ক) রপ্তানি নীতি প্রণয়ন ও কর্মসূচি নির্ধারণ
(খ) বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি বাজার অনুসন্ধান ও রপ্তানিকারকদের তথ্য সরবরাহ করা
(গ) আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণ করা
(ঘ) রপ্তানি পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ,ডিজাইন ও মোড়কীকরণে উন্নয়নে সহায়তা দান করা
(ঙ) রপ্তানি ও আমদানিকারীর মধ্যস্থ বিরোধ নিষ্পত্তি করা
(চ) রাষ্ট্রপতির রপ্তানি ট্রফি প্রদান।

এসব থেকে রপ্তানি উন্নয়ন কৌশল হিসেবেই নতুন নতুন ব্যবসায় বিনিয়োগ ধারণা পাওয়া সম্ভব হয়। তাছাড়া দেশের এবং বিদেশের আমদানি ও রপ্তানি বিষয়ক সকল তথ্য এখানে সহজেই পাওয়ায় দেশের ব্যবসায় বাজার, কোন পণ্যের চাহিদা বিশ্ববাজারে বর্তমানে বেশি আছে এসব বিষয়ে পরিষ্কার ধারনা পাওয়া যায় যা একজন এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট  ব্যবসায় আগ্রহী উদ্যোক্তার জন্য খুবই কার্যকরী।

১১) বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ( Bangladesh Krishi bank )
১৯৭৩ সনের রাষ্ট্রপতির বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক অধ্যাদেশ ২৭ বলে এই ব্যাংক গঠিত হয়। এটি তৎকালীন পাকিস্তান কৃষি ব্যাংকের পূর্ব পাকিস্তান কার্যালয় এবং শাখার সম্পত্তি ও দায় নিয়ে যাত্রা আরম্ভ করে। তারপর এটি কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা উন্নয়ন সহায়ক কার্যাবলী গ্রহণ করে থাকে।

*) বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ( Bangladesh Krishi bank )এর উদ্দেশ্য ও কার্যাবলী:
(ক) কৃষকদের মধ্যমেয়াদী ও স্বল্পমেয়াদী ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ
(খ) সেচ যন্ত্রপাতি ও নলকূপ ক্রয়ের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঋণ প্রদান
(গ) গবাদিপশু পালন এবং হাস মুরগির খামার স্থাপনের জন্য ঋণ প্রদান
(ঘ) মৎস্য প্রকল্পের জন্য ঋণ কর্মসূচি
(ঙ) ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প উন্নয়নে আর্থিক ও কারিগরি সাহায্য দান
(চ) বনজ সম্পদ ও উদ্যান উন্নয়নের জন্য ঋণ প্রদান কর্মসূচী
(ছ) জমি বন্দক নিয়ে ঋণ প্রদান
(জ) স্বনির্ভর বাংলাদেশ কর্মসূচিতে ক্ষুদ্র,প্রান্তিক ও ভূমিহীন কৃষকদের ঋণ দেওয়া
(ঝ) প্রাকৃতিক বিপৎকালীন সহায়তা প্রদান ইত্যাদি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের কার্যাবলী পর্যবেক্ষণ করে একজন উদ্যোক্তা হিসেবে আপনি বিশেষকরে বাংলাদেশের বিভিন্ন মফঃস্বল অঞ্চলে বিনিয়োগ করার সঠিক গাইডলাইন পাবেন।

১২) ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট লিজিং কোম্পানি অব বাংলাদেশ ( IDLCB )
১৯৮৫ সালে দেশি ও বৈদেশিক বিনিয়োগে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যবসায় ও শিল্প ধারনার সূত্র পাওয়া যায়।

*) ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট লিজিং কোম্পানি অব বাংলাদেশ ( IDLCB )এর মূল উদ্দেশ্য হলঃ
(ক) শিল্পে বিদেশি বিনিয়োগ
(খ) শিল্প প্রতিষ্ঠান ইজারা নিয়ে ব্যবসায় পরিচালনা
(গ) বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্টকরণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধন
(ঘ) শিল্পোন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করণ
(ঙ) মধ্যমেয়াদী ইজারা অর্থায়ন করা
(চ) নিরবিচ্ছিন্ন উৎপাদন নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করা
এখান থেকে আপনি বড় ধরণের ব্যবসায় পরিচালনার শক্ত বেসিক পাবেন। আর প্রয়োজনীয় তথ্যতো আছেই।

১৩) বাংলাদেশ পল্লীউন্নয়ন বোর্ড ( Bangladesh rural development board )
বাংলাদেশ ও পল্লীউন্নয়ন বোর্ডের মূল লক্ষ্য বিত্তহীন ও নিম্ন আয়ের জনগণকে সমবায় আন্দোলনের মাধ্যমে সংঘটিত করা এবং তাদের অবস্থান উন্নয়ন নিশ্চিত করা। নিম্ন আয়ের বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষকে সংগঠিত করে জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণ দান ছাড়াও বিআরডিবি ঋণ সহায়তা প্রদান এবং পণ্য বিপণনে সাহায্য করে থাকে। দেশের দারিদ্র বিমোচন কর্মসূচিতে বিআরডিবি মুখ্য সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে ভূমিকা পালন করে।

তাই এখান থেকে আপনি শ্রমবাজার সম্পর্কে সঠিক এবং প্রয়োজনীয় ধারণা পাবেন।যার ফলে আপনি আপনার নতুন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে কিভাবে স্বল্পমূল্যে দক্ষ জনশক্তি পেতে পারেন সে বিষয়ে জানতে পারবেন।

১৪) ব্যাংক অব স্মল ইন্ডাস্ট্রিজ এন্ড কমার্স ( BASIC )
এটি একটি বাণিজ্য বিশেষায়িত শিল্প উন্নয়ন ব্যাংক। ১৯৮৮ সনে কোম্পানি আইন অনুযায়ী বেসরকারি ব্যাংক হিসেবে এটি নিবন্ধিত হলেও ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ সরকার এ ব্যাংক অধিগ্রহণ করে।

*) ব্যাংক অব স্মল ইন্ডাস্ট্রিজ এন্ড কমার্স ( BASIC ) এর উদ্দেশ্য:
(ক) ক্ষুদ্র শিল্প বাণিজ্যের উন্নয়নে ঋণ – সহায়তা প্রদান
(খ) ক্ষুদ্র শিল্পোদ্যোক্তাদের কারিগরি সাহায্য ও পরামর্শ প্রদান
(গ) উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সাথে সাথে সাধারণ ব্যাংকিং প্রথা সম্পাদন
(ঘ) এর প্রধান কাজ ক্ষুদ্র শিল্পে ঋণ সুবিধা প্রদান এবং মোট ঋণ তহবিলের কমপক্ষে ১০% ঋণ প্রদান
(ঙ) ক্ষুদ্র শিল্প প্রকল্প প্রণয়ন ও অর্থসংস্থানে সাহায্য করা
এভাবেই বিভিন্ন ব্যবসায় ধারণা দিয়ে শিল্প বিকাশে এ প্রতিষ্ঠান প্রতিনিয়ত ভূমিকা রেখে চলেছে।

১৫) শিল্প ও বণিক সভা ( chamber of commerce )
শিল্প ও বণিক সভা দেশের শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠাসমূহের একটি জোটবদ্ধ প্রতিষ্ঠান।শিল্প ও বাণিজ্যের উন্নয়নের লক্ষ্যে এ প্রতিষ্ঠান গঠিত হলেও এর রয়েছে আরও বেশ কিছু প্রধান উদ্দেশ্য।

*) শিল্প ও বণিক সভা ( chamber of commerce ) এর উদ্দেশ্য:

(ক) শিল্প ও ব্যবসায় বাণিজ্যের উন্নয়ন ও প্রসার
(খ) আমদানি-রপ্তানি, বিনিয়োগ ব্যাংকিং, বীমা, শিল্প সম্পর্কে নীতি প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়ন
(গ) বৈদেশিক বাণিজ্যে প্রয়োজনীয় দলিলপত্রের বৈধতা নিশ্চিতকরণ এবং পণ্যের উৎপত্তি সনদ ( certificate of origin ) প্রদান করা
(ঘ) বিভিন্ন সমকালীন শিল্প ও বাণিজ্য সংক্রান্ত বিষয় গবেষণা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা
(ঙ) বৈদেশিক বাণিজ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করা ইত্যাদি
এই সব কাজের মাধ্যমে অনেক নতুন ধারনা দিয়ে শিল্প ও বণিক সভা ( chamber of commerce ) নতুন উদ্যোক্তাদের ব্যাপক সহযোগিতা করে আসছে।

১৬) মাইডাস ( MAIDas )
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা হিসেবে মাইডাস ( maicro industries development ) ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন ঋণ প্রদান করে। তাছাড়া আর্থিক কারিগরি ও ব্যবস্থাপকীও সহায়তাও দিয়ে থাকে। মাইডাসের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান মাইডাস ফাইনান্সিং লিমিটেড ( MFL ) নিম্নবর্ণিত কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।

(ক) উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও ব্যবসায়ের সুযোগ গ্রহণে সাহায্য
(খ) ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে ঋণ এবং কারিগরি ও ব্যবস্থাপকীয় সহায়তা প্রদান
(গ) ব্যবসায় ক্ষেত্রে অনুসন্ধান এবং গবেষণার কাজ পরিচালনা
(ঘ) শিল্পোদ্যোক্তাদের মধ্যে সহযোগিতার নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা
(ঙ) ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে উৎপাদিত পণ্য স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে বিপণনের ক্ষেত্রে সাহায্য করা
(চ) শিল্প সম্ভাবনা সমীক্ষা
(ছ) উদ্যোক্তা উন্নয়ন, ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা, মানব সম্পদ উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত শিক্ষা, প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং রপ্তানি উন্নয়ন বিষয়ে কার্যকরী প্রশিক্ষণ প্রদান
(জ)  মহিলা শিল্পোদ্যোক্তাদের জন্য উন্নয়ন কর্মসূচি (WED) গ্রহণ। এখানে উল্লেখযোগ্য যে, বাংলাদেশ মহিলা শিল্পোদ্যোক্তা উন্নয়নের ক্ষেত্রে মাইডাস অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মাইডাসের সার্বিক বাণিজ্যিক ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ১৫-২০% শুধুমাত্র মহিলা উদ্যোক্তাদের জন্যই নিবেদিত।

এখান থেকে একজন উদ্যোক্তা বেসরকারিভাবে প্রাথমিক ঋণ সংক্রান্ত ধারণা পেতে পারেন। তাছাড়া মহিলা উদ্যোক্তাগণ তাদের ব্যবসায় উদ্যোগ গ্রহণের প্রাথমিক ধারণা এবং ব্যবসায় পরবর্তী সকল ধরণের সমস্যার সমাধান পেতে পারেন। তাই বলা যায় মাইডাস নতুন উদ্যোক্তাবৃন্দদের একটি অন্যতম সহযোগী সংস্থা।

১৭) বাণিজ্যিক ব্যাংকঃ
বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো দেশের শিল্প ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত রয়েছে। এগুলোর বার্ষিক প্রতিবেদন,সুদের হার ও খাতওয়ারি ঋণদান নীতি ইত্যাদি সম্ভাব্য শিল্পোদ্যোক্তাদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ শিল্পোদ্যোগ ধারণার উৎস হতে পারে।

১৮) বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ ( বিসিএস আই আর )
এ পরিষদের লক্ষ্য হলো শিল্প ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা কর্মের নির্দেশনা প্রদান।এদের গবেষণালব্ধ পদ্ধতি সম্ভাব্য শিল্পোদ্যোক্তাদের জন্য নতুন শিল্প ধারণার উৎস হতে পারে। উক্ত গবেষণা থেকে বাণিজ্যিক অনেক ধারণাই পরিষ্কার হয়ে যাবে নতুন উদ্যোক্তাদের। যাতে করে তা ব্যবসায় কাজে লাগিয়ে সফলতা আনয়ন করা সম্ভব।

১৯) ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রমোশন এন্ড ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি অব বাংলাদেশ (আই পি ডি সি)
এটি একটি শিল্প বিনিয়োগ কোম্পানি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। নতুন ব্যবসায় ও শিল্পধারনার জন্য এ কোম্পানির জন্য যোগাযোগ করা যেতে পারে।কারণ এ কোম্পানির প্রধান উদ্দেশ্য হল বাস্তবসম্মত বিনিয়োগ সুবিধা খুঁজে বের করা ও তার উন্নয়ন সাধন কয়রা।

তাই এখান থেকে একজন নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে আপনি বর্তমান বাজারে সঠিক বিনিয়োগের মাধ্যম খুঁজে নিতে পারেন এতে কোন সন্দেহ নেই।

২০) ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ ( আই সি বি )
এ প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো উদ্যোক্তাদেরকে লাভজনক বিনিয়োগের ক্ষেত্র বেছে দেওয়া।বাংলাদেশের সম্ভাব্য উদ্যোক্তাগণ বাস্তবসম্মত শিল্পোদ্যোগ ধারণার জন্য এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।

২১) বস্ত্র বিভাগ ( department Textile )
শিল্প মন্ত্রণালয়ের বস্ত্র বিভাগ ব্যক্তি মালিকানায় বস্ত্র শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর দেখাশোনা করে থাকে। বস্ত্রশিল্প খাতের প্রসার ও উন্নয়নকল্পে বাস্তবসম্মত ধারণা ও পরামর্শ দিয়ে থাকে। এছাড়া নতুন শিল্প স্থাপনে শিল্প ধারনা ও পরামর্শ দিয়ে থাকে।

আমরা জানি বর্তমান বাজারে বস্ত্রশিল্প আমাদের অন্যতম অর্থনৈতিক উৎস। তাই এই শিল্পে বিনিয়োগ করার ঝোঁক বেশি দেখা যায়। বাংলাদেশে তুলনামূলক অল্প বেতনে শ্রমিক পাওয়ায় এই শিল্পে বিনিয়োগের প্রবণতা আরও বেশি। তাই আপনি যদি একজন সফল গার্মেন্টস ব্যবসায়ি হতে চান তাহলে অবশ্যই বাংলাদেশ বস্ত্র বিভাগের সাথে যোগাযোগ করা জরুরী।

২২) বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সাহায্য কেন্দ্র ( বিটাক)
এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো – দেশের শিল্পে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা। সম্ভাব্য শিল্পোদ্যোক্তাদের দেশের আধুনিক ও উন্নয়নমুখী প্রযুক্তি সম্বন্ধে সজাগ করে সম্ভাব্য শিল্পোদ্যোগ ধারণার একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে এই প্রতিষ্ঠানটি।

একজন নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে আপনার দরকার তথ্য। তাই এখানে আসলে আপনি যথেষ্ট উপকৃত হবেন আপনার নতুন ব্যবসায় বিনিয়োগ সম্বন্ধে।

২৩) রপ্তানি পক্রিয়াজাতকরন এলাকা ( ই.পি.জেড )
রপ্তানিমুখি ব্যবসা ও শিল্প স্থাপনের সুযোগ দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর নগরে একটি রপ্তানি পক্রিয়াজাতকরন এলাকা গড়ে তোলা হয়েছে। এখানে স্থাপিত শিল্পসমূহকে প্রয়োজনীয় কর সুবিধা, শুল্কমুক্ত আমদানি- রপ্তানির সুবিধা দেওয়া হয়।

তাই এই কর্তৃপক্ষ একজন উদ্যোক্তাকে রপ্তানিমুখি বিভিন্ন ব্যবসায়ের ধারনা দিতে পারে। বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের মাঝে রপ্তানিমুখি ব্যবসায় বিনিয়োগের প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। যারা এই ধরণের ব্যবসায় আসতে চান তারা ই পি জেডের সাথে যোগাযোগ করে তথ্য এ সংক্রান্ত তথ্য পেতে পারেন।

২৪) আমদানি ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ দপ্তর ( সি সি আই )
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ এ দপ্তর দেশে ওয়ারী পণ্যের আগমন ও নির্গমন সম্পর্কিত তথ্য দিতে পারে। এ থেকে পণ্য চলাচলের নতুন নতুন ব্যবসায় ও শিল্প ধারণার অর্থপূর্ণ উৎসের যোগান দিতে পারে।

২৫) চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজঃ
প্রতিষ্ঠিত ও প্রধান শিল্প মালিকগণই এ চেম্বারের সদস্য। শিল্পনিতির বিভিন্ন ব্যাপারে সরকারের সাথে আলাপ-আলোচনা করার এ সংগঠন শিল্প সমাজের মনোনীত প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে।

এ কারণেই সম্ভাব্য উদ্যোক্তাগণ লাভজনক ব্যবসায় উদ্যোগ ধারণার জন্য বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর সাথে যোগাযোগ করে থাকে।

২৬) উন্নয়নমূলক আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ ( ডিএফআই )
বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক ও বাংলাদেশ শিল্প ঋণ সংস্থার কাজ হলো দেশি ও বিদেশি মুদ্রায় শিল্পসমূহে ঋণ দেওয়া। বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক ও বাংলাদেশ শিল্প ঋণ সংস্থা দেশের ভিতরে ও বাইরে বিনিয়োগের জন্য সম্পদ যোগাড় করে সম্ভাব্য শিল্পোদ্যোক্তাদের প্রকল্প নির্বাচন ও প্রতিবেদন প্রস্তুতে সহায়তা করে। এছাড়াও বিনিয়োগকারীদের পরামর্শ ও নির্দেশনামূলক সেবাও প্রদান করে।

২৭) বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ (এনজিও)
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে শিল্প শাখার  অনেকগুলো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কর্মতৎপর রয়েছে। যেমনঃ ব্র্যাক, প্রশিকা, আশা ইত্যাদি গ্রামীণ এলাকায় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছে।এ সব বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ ধারণার ভালো উৎস হতে পারে।

২৮) বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানসমূহঃ
সম্ভাব্য উদ্যোগকারীর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়  ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর গবেষণা ও প্রকাশনাসমূহ নতুন শিল্প ধারণার জন্য অর্থপূর্ণ উৎস হতে পারে। উদাহারনসরূপ বলা যায় – ড,এ এম চৌধুরীর লেখা বই “এন্ট্রিপিনিউরিয়াল সাকসেস”নতুন শিল্প উদ্যোগ ধারণার উৎস হিসেবে যথাযথ কাজ করতে সক্ষম।

২৯) বাংলাদেশ হস্তচালিত তাঁত শিল্প দ্রব্য রপ্তানি কর্পোরেশন ( Bangladesh handloom product, export corporation )
হস্তচালিত তাঁত শিল্পজাত দ্রবের রপ্তানি বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ হস্তচালিত তাঁত শিল্প কর্পোরেশন গঠিত হয়। বাংলাদেশের তাঁত ও কুটির শিল্পজাত পণ্য সামগ্রীর উন্নয়নের ব্যাপারে গঠনমূলক পরামর্শ প্রদান এবং বিদেশে এগুলোর রপ্তানির পরিমাণ বৃদ্ধি করাই এ কর্পোরেশনের মূল উদ্দেশ্য। এ কর্পোরেশন আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের তাঁত ও কুটির শিল্পজাত পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধির জন্য আন্তর্জাতিক মেলা ও প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করে থাকে। বাংলাদেশ হস্তচালিত তাঁত শিল্পদ্রব্য রপ্তানি কর্পোরেশন নিজস্ব উদ্যোগে বিদেশে তাঁত শিল্পজাত দ্রব্য রপ্তানি করে থাকে।

তাঁত ও হস্তচালিত ব্যবসায় লাভবান হওয়ার জন্য এই সংস্থার সাথে যোগাযোগ অত্যাবশ্যক। আমদানি-রপ্তানি,স্থানীয় শ্রমবাজার এবং উপযোগ সম্পর্কে আপনি একদম টাটকা ধারণা পেয়ে যাবেন এখান থেকে যা আপনাকে বর্তমান বাজারে এসব ব্যবসায় সফলতা এনে দিতে সহযোগিতা করবে।

৩০) বাংলাদেশ পল্লিউন্নয়ন কমিটি ব্রাক (bangladesh rural advancement committee,BRAC)
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ বেসরকারি উন্নয়ন সাহায্য সংস্থা ব্রাক ১৯৭২ সালে ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কার্যক্রম হাতে নিয়ে যাত্রা শুরু করে। এরপর থেকে দারিদ্র দূরীকরণে এবং দরিদ্র জনগণকে ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে এ সংস্থা বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে চলেছে।

*) উদ্যোক্তা উন্নয়নের লক্ষ্যে ব্রাক যে কার্যক্রমগুলো হাতে নিয়েছে সেগুলো হচ্ছেঃ
(ক) ক্ষুদ্রশিল্প উন্নয়ন কার্যক্রম – ব্রাক ক্ষুদ্র শিল্প উন্নয়নের জন্য নিম্নোক্ত কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।
(১) কাপর বুনন
(২) হাঁস-মুরগি পালন
(৩) আসবাবপত্র তৈরি বা প্রস্তুতকরণ
(৪) তেল উৎপাদন
(৫) গুড় তৈরি
(৬) দড়ি বা রশি/শিকা তৈরি
(৭) বাঁশ ও বেতের সামগ্রী প্রস্তুতকরণ
(৮) ধান বানা প্রভৃতি

(খ) সহযোগী প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন:
এ কর্মসূচির আওতায় ভূমিহীন লোকদেরকে প্রকল্প প্রণয়ন,বাস্তবায়ন ব্যবস্থা,বাজারজাতকরণ বা বিপণন কার্যক্রমের মাধ্যমে সংগঠিত করা হয়।যেমন – ইট তৈরি।

(গ) উৎপাদন কেন্দ্র উন্নয়ন:
ব্রাক এ কর্মসূচির অধীনে আধুনিক ডিজাইন ও প্রযুক্তির মাধ্যমে গ্রামীণ শিল্পজাত পণ্যসামগ্রীর উৎকর্ষতা বৃদ্ধি ও মান উন্নয়ন এবং সেই সাথে উৎপাদন বৃদ্ধির প্রচেষ্টা চালায়।

(ঘ) কারুশিল্পের উন্নয়নঃ
ঐতিহ্যগত কারুশিল্পের উন্নয়নের মধ্যে রয়েছে জামদানী,সিল্ক,নকশী কাঁথা ইত্যাদি।

স্থানীয় বাজার সম্পর্কে একজন উদ্যোক্তাকে ধারণা রাখতেই হয়।দেশের এই অভ্যন্তরীণ সকল ব্যবসায় সংক্রান্ত তথ্য আপনি পেতে পারেন ব্রাক নামক এই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানটি থেকে।

৩১) গ্রামীণ ব্যাংক ( grameen bank )
গ্রামীণ ব্যাংক একটি বিশেষ আর্থিক প্রতিষ্ঠান। ১৯৭৬ সালের আগস্ট মাসে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস কর্তৃক চট্টগ্রামের জোবরা গ্রামে একটি প্রকল্প হিসেবে গ্রামীণ ব্যাংকের আত্মপ্রকাশ ঘটে। ১৯৮৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে গ্রামীণ ব্যাংক প্রকল্পকে গরীবদের জন্য একটি বিশেষ ব্যাংকে রূপান্তরিত করা হয় এবং বর্তমানে তা এক বিরাট মহিরূপে পরিণত হয়েছে।

*) গ্রামীণ ব্যাংক ( grameen bank )এর উদ্দেশ্য ও কার্যাবলী:
(ক) ভূমিহীন ও বিত্তহীনদের ঋণদান: গ্রামীণ ব্যাংক গ্রামের ভূমিহীন ও বিত্তহীনদের একটি সাংগঠনিক কাঠামোয় এনে তাদেরকে সহজ শর্তে ঋণ দিয়ে থাকে।
(খ) জামানতবিহীন ঋণ প্রদানঃ কোন প্রকার জামানত ছাড়াই গ্রামের গরীব ও ভূমিহীনদেরকে গ্রামীণ ব্যাংক উক্ত সুবিধা প্রদান করে থাকে।
(গ) সঞ্চয় সৃষ্টি: এ ব্যাংক ঋণ প্রদানের সাথে সাথে ভূমিহীন ঋণ গ্রহীতাদের গ্রুপভিত্তিক সঞ্চয় গড়ে তুলতে উৎসাহিত করে।
(ঘ) গৃহনির্মাণ ঋণ: গ্রামাঞ্চলে নিঃস্ব ও ভূমিহীন কৃষকদেরকে গৃহ নির্মাণের জন্য গ্রামীণ ব্যাংক ঋণ প্রদান করে থাকে।
(ঙ) কর্মসংস্থান: গ্রামীণ ব্যাংক গ্রামের বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগসহ ভূমিহীন ও গরিব পরিবারের মহিলাদের খন্ডকালীন কাজের সংস্থান করে
(চ) ক্ষুদ্র ব্যবসায় ও কুটির শিল্পঃ গ্রামীণ ব্যাংক গ্রামের ভূমিহীন ও বিত্তহীন পুরুষ ও মহিলাকে ক্ষুদ্র কুটির শিল্পের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি এবং সাজ-সরঞ্জাম সংগ্রহের জন্য ঋণ দিয়ে থাকে।

ভোক্তা সম্পর্কে যথেষ্ট তথ্য পাবেন আপনি এই ব্যাংক থেকে। স্থানীয় বাজারে ব্যবসার জন্য টার্গেটিং কাস্টমার আপনি খুব সহজেই বের করতে পারবেন গ্রামীণ ব্যাংকের এইসব কার্যক্রম দেখে।

তাছাড়া বর্তমানে বেশিরভাগ নতুন উদ্যোক্তাগণই আর্থিক টানাপোড়নে থাকেন। তাই তারা স্বল্প বিনিয়োগে ব্যবসায় লাভ আশা করেন আর এ জন্যই বেছে নেন ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পকে। আর একটি ব্যবসায় সফল হতে হলে সেই ব্যবসা সম্পর্কে এ ২ জেড আপনাকে জানতে হবেই। গ্রামীণ ব্যাংকের সকল কার্যক্রম ঘাঁটলে এই জানার কাজে আপনি অনেকটাই এগিয়ে যাবেন।

৩২) বাংলাদেশ মান নিয়ন্ত্রণ ও পরীক্ষণ ইন্সটিটিউট(Bangladesh standards and testing institution,BSTI)
১৯৭৭ সালের ৪ই আগস্ট এক অধ্যাদেশ বলে বাংলাদেশ মান নিয়ন্ত্রণ ও পরীক্ষণ ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয়।যে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কাজ হচ্ছে বাংলাদেশে ব্যবহার্য শিল্প পণ্যের মান সংরক্ষণ ও উন্নয়ন সংক্রান্ত কার্যাবলী সম্পাদন করা। বাংলাদেশের উৎপাদিত দ্রব্য দেশি ও বিদেশি বাজারে প্রতিযোগিতার সামর্থ্য অর্জনের জন্য উন্নতমানের দ্রব্য আমদানি ও উৎপাদনের প্রতি দৃষ্টি রাখা এর প্রধান কাজ।
বাংলাদেশ মান নিয়ন্ত্রণ ও পরীক্ষণ ইন্সটিটিউট বাংলাদেশের উৎপাদিত পণ্যসামগ্রীর মান নির্ধারণকারী জাতীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।

এ প্রতিষ্ঠানের ৬ টি শাখা বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করে থাকে,যথা –
(ক) কৃষি ও খাদ্য
(খ) পাট ও বস্ত্র
(গ) কেমিক্যাল
(ঘ) ইলেক্ট্রো-টেকনিক্যাল
(ঙ) বিল্ডিং ও বিল্ডিং সরঞ্জামাদি এবং
(চ) ইঞ্জিনিয়ারিং সরঞ্জামাদি
*) বাংলাদেশ মান নিয়ন্ত্রণ ও পরীক্ষণ ইন্সটিটিউটের উদ্দেশ্যসমূহ হচ্ছে:
(ক) পণ্যদ্রব্য,সামগ্রী,পক্রিয়া ইত্যাদির সাথে সম্পর্কযুক্ত মান তৈরি করা
(খ) জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে এসব পণ্যের মান নিশ্চিত করা।

বাংলাদেশ মান নিয়ন্ত্রণ ও পরীক্ষণ ইন্সটিটিউট থেকে উপরোক্ত মান সম্মত পণ্যের ধারণা পাওয়া যায়।যা একজন সম্ভাব্য উদ্যোক্তাকে ব্যবসায় ও শিল্প ধারণা অর্জনে সহায়তা করবে।

৩৩) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ( বিবিএস )
বাংলাদেশের সকল জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের দায়িত্বে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রকাশনা তালিকা যা একজন উদ্যোক্তাকে নতুন ধারণা দিতে পারে। উদ্যোক্তাদের জন্য এই ধরণের কার্যক্রম দারুণ উপকারী। এসব বই থেকে আপনি বাংলাদেশ এবং বহির্বিশ্বের নানা ব্যবসায় সম্পর্কে জানতে পারবেন যা আপনাকে বর্তমান বাজার অনুযায়ী সঠিক বিজনেস পলিসি গ্রহণ করতে ব্যাপক সহযোগিতা করবে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর কিছু প্রকাশনার তালিকা যা উদ্যোক্তাদের জন্য কাজে লাগতে পারে তা নিচে দেওয়া হলোঃ
*) মাসিক প্রকাশনাসমূহ
(১) স্ট্যাটিস্টিক্যাল বুলেটিন
(২) ইকুনমিক ইনডিকেটরস
(৩) ইকনমিক সিচ্যুয়েশন

*) বার্ষিক প্রকাশনাসমূহ
(১) পরিসংখ্যান বর্ষপঞ্জি (স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইয়ারবুক )
(২) কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষপঞ্জি ( ইয়ারবুক অব এগ্রিকালচারাল স্টাটিসটিকস )

উক্ত বইসমূহ পড়লে নতুন উদ্যোক্তাদের ব্যবসায় ধারণা খুবই বাস্তবসম্মতভাবে ডেভলাপ হবে।

৩৪) ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাসমূহঃ
বাংলাদেশের অনেক প্রতিষ্ঠানে পরিকল্পনা,গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগ রয়েছে। এ সমস্ত প্রতিষ্ঠান গবেষণা করে গবেষণা লব্ধ ফলাফল পত্রিকায় প্রকাশ করে থাকে।এ সমস্ত পত্রিকা হতে সম্ভাব্য শিল্পোদ্যোক্তা তাদের শিল্প ধারণা পেতে পারে।

৩৫) ঋণ চুক্তিসমূহঃ
আমাদের দেশের উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়নে বেশিরভাগ অর্থ পাওয়া যায় বন্ধু প্রতিম দাতা দেশ ও  আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থাগুলো থেকে।

বাংলাদেশ সরকারের সাথে এসব দাতা দেশ এবং সংস্থার মাঝে যে চুক্তি হয় সেগুলো সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীর জন্য ভালো উৎস হতে পারে।ইতিমধ্যেই রপ্তানিমুখি ব্যবসার সফলতায় এ তথ্যগুলো বেশ কার্যকরী ভূমিকা রেখেছে ।

বাংলাদেশ শিল্প-উদ্যোগ ধারণার অনানুষ্ঠানিক উৎস বা সূত্রসমূহ ( discuss informal source of venture ideas in Bangladesh )
নিম্নে আলোচিত উৎস থেকে উদ্যোক্তাগণ অনানুষ্ঠানিক ব্যবসায় উদ্যোগ সংক্রান্ত ধারণা পেতে পারেন। যেমন –

১) ব্যবসা ও শিল্পের সাথে যোগাযোগঃ
বাণিজ্যিক পরিবেশ থেকে নতুন ব্যবসায় ধারনা পেতে হলে ব্যবসায় ও শিল্পের সাথে যোগাযোগ সবচাইতে উৎকৃষ্ট পন্থা।শিল্প ও ব্যবসায় যোগাযোগ প্রধানত নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর উপর নির্ভর করে।

(ক) ক্রেতাদের নিকট থেকে ধারণাঃ
ক্রেতারা বর্তমানে যে সমস্ত পণ্যদ্রব্য ব্যবহার করে তার দোষ সীমাবদ্ধতা এবং সেই সঙ্গে নতুন পণ্যের চাহিদা নিরূপণ করে তাদের নিকট থেকেই নতুন পণ্য দ্রব্য সম্পর্কিত ব্যবসায়িক ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

(খ) পাইকার ও সরবরাহকারীর নিকট থেকে ধারণাঃ
বর্তমান বাজারে যে সমস্ত পণ্যদ্রব্য পাওয়া যায় তার গুনাগুণ ও সীমাবদ্ধতা সম্বন্ধে পাইকার ও সরবরাহকারীদের খুব ভালো ধারণা থাকে। তারা বর্তমান পণ্যের কি ধরনের উন্নয়ন প্রয়োজন এবং নতুন কি ধরণের পণ্য সামনে বাজার পেতে পারে তা বলতে পারে।তাই এদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে নতুন ব্যবসার ধারণা খুব সহজেই পাওয়া যেতে পারে।

(খ) ব্যবসায়ী প্রদর্শনী ও শোরুম থেকে ধারনাঃ
ব্যবসায় উদ্যোগের নতুন ধারণা পাওয়ার ক্ষেত্রে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় প্রকার ব্যবসায় প্রদর্শনী অত্যন্ত সহায়ক। কারণ এ ধরণের প্রদর্শনী একজন উদ্যোক্তাকে বিভিন্ন পণ্যের সঙ্গে পরিচয় ঘটায়। যার ফলে সে বাজারের বর্তমান অবস্থা,প্রযুক্তির চাহিদা ও পণ্যের উৎপাদন ব্যয় বিচার বিশ্লেষণ করে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে।

২) পেশাধারীদের সাথে যোগাযোগঃ
বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন পেশায় জড়িত ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে ব্যবসায় উদ্যোগের নতুন ধারণা পাওয়া সম্ভব। এরা হলেন – পেশাভুক্ত হিসাববিজ্ঞানি, অর্থনীতিবিদ, গবেষক, ব্যাংকার এবং শিল্পোদ্যোক্তাবৃন্দ। যেমন – একজন অর্থোপেডিক সার্জন দেশে কৃএিম অঙ্গ ( হাত,পা) ইত্যাদি সম্পর্কিত ব্যবসায় সুযোগ সম্পর্কে উদ্যোক্তাদেরকে সহজেই ধারণা সাইট পারেন।

৩) পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান:
বাংলাদেশে বহু প্রতিষ্ঠান শিল্প ক্ষেত্রে পরামর্শ দান ব্যবসায় নিয়জিত রয়েছে। এদের বেশিরভাগ পরামর্শ সংক্রান্ত দলিলই অপ্রকাশিত অবস্থায় থাকে। এসব অপ্রকাশিত প্রতিবেদন নতুন ব্যবসায় ধারণার উৎস হিসেবে ব্যাপক কার্যকর।

৪) জাতীয় নেতাদের নিকট থেকে ধারণা:
কোন দেশের জাতীয় উন্নয়নের অগ্রগতির ধারা সরকারের অভ্যন্তরে ও বাইরে উভয় ধরণের জাতীয় নেতাদের দৃষ্টিভঙ্গির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। রাজনৈতিক দলগুলো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন পদ্ধতি ও উন্নয়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে আলোকপাত করে। নেতৃস্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলোর ধ্যান-ধারণা ও কর্মসূচি হতেও উদ্যোক্তাগণ নতুন ব্যবসার খোঁজ পেতে পারেন।

৫) পণ্য নিয়ে গবেষণাঃ
একটি পণ্য বাজারে বর্তমানে কেমন চাহিদায় আছে,এর যোগান এবং ভোক্তাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা বিবেচনা করতে থাকলে সেই পণ্য সম্পর্কে উদ্যোক্তাদের একটি দূরদর্শী ধারণা জন্মাবে। যেখানে ভবিষ্যতে উক্ত পণ্যের বাজার সম্পর্কে ধারণাও থাকবে।এভাবেই আপনি একজন উদ্যোক্তা হিসেবে পণ্যের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জেনে ব্যবসায় নামতে পারবেন যা আপনার জন্য লাভজনকই হবে।

সর্বোপরি বলা যায় – একটি ব্যবসায় সফলতা আনতে হলে দরকার প্রচুর দক্ষতা এবং নিজের সাথেই নিজের প্রতিযোগিতা করার মনোভাব। প্রচুর গবেষণার মাধ্যমেই নতুন কিছু আবিষ্কার হয় এ কথাটি সার্বজনীন সত্যি এবং এটি ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে আরও বড় সত্যি। আপনাকে বর্তমান বাজার, চাহিদা, যোগান, বিনিয়োগের উৎস, দেশের অর্থনৈতিক – রাজনৈতিক ও প্রযুক্তিগত অবস্থা এবং এর অগ্রগ্রতির ধারাসহ  ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও যথেষ্ট গবেষণা করতে হবে একটি ব্যবসায় সফল হতে হলে।

আপনাদের জন্য এই পোস্টটি লেখার কারণও মূলত এই সকল বিষয়ে আপনাদেরকে ধারণা দেওয়া। উপরোক্ত সকল তথ্যগুলো আশা করি উদ্যোক্তা হিসেবে আপনাদেরকে সঠিক পথে পরিচালিত হতে সহযোগিতা করবে। ইনশাআল্লাহ আমার এই লেখা নতুন উদ্যোক্তাদের ব্যবসায় ধারণা দিয়ে একটু হলেও সাহায্য করবে।

আপনাদের জন্য সামনে মার্কেটিং সহ আরও অসংখ্য কার্যকরী পোস্ট নিয়ে ধারাবাহিকভাবে আমি আপনাদের সাথেই থাকবো।

SHARE
সোহেল মৃধা
সোহেল মৃধা সম্পর্কে কিছু কথা .......

১ টি মন্তব্য

মন্তব্য পোস্ট করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here