ইকমার্সের ১০১ ডেইলি টিপস

Ecommerce Daily Tips 101

7ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কটা বড়ো করতে কার্পণ্য করবেন না

অনেকেই আছেন যারা থার্ড পাটিকে পণ্য দেব কিনা এই নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগেন। এই ব্যাপারে দ্বিধা ছেড়ে জেগে উঠুন। যদি আপনার লাভ হয়, আপনার পণ্যের প্রসার ঘটে, আপনার নেটওয়ার্ক বিস্তার হয়। তাহলে অন্য কোনো শপকে পণ্য দিতে অনীহা থাকার কথা নয়। তাই আপনার বিক্রি বাড়ার জন্য অন্য কারো হেল্প নেয়া ইতিবাচক। প্রথমত কখনো মনে করবেন না আমাকে দিয়ে আরেকজন ব্যবসা করবে এটা কেমন কথা? আপনার নিজের স্বার্থ ঠিক থাকলে এতে কোনো অসুবিধা নেই। তবে যার সাথে যে ব্যবসাই করেন না কেন সেখান থেকে আপনি আপনার লাভ, আর্থিক এবং প্রচার তুলে নেবেন এবং লেনদেনে সর্তক ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখুন।

6নিজের প্রতি পক্ষপাত ছাড়ুন অন্তত ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে

ইকমার্স উদ্যোক্তারা অনেক কিছুই একা একা করেন এটা করতে গিয়ে প্রদর্শনীয় ও প্রমোশনাল জিনিসগুলো নিজ হাতে করে থাকেন। যেমন লোগো, ভিজিটিং কার্ড, পণ্যের ছবি তোলা, ইমেজ এডিটিং ইত্যাদি। নিজে ভালো পারলে কোনো সমস্যা নেই। নিজে না পারলে কিন্তু করতে যাওয়া ঠিক নয়। আপনার কাজটা চলবে কিন্তু সেটাতো মানসম্পন্ন নাও হতে পারে। একটা লোগোতো যদি ভাব না থাকে  দরকার কি নিজে এতো কষ্ট করে বানালাম ফেলে দেব কিভাবে? অনেকে ছবি তোলেন নিজে নিজে। মনে করেন আমিতো ভালোই পারি। কিন্তু গুগল করে দেখুন আপনার ছবি আন্তর্জাতিক বা মানসম্পন্ন সাইটের ছবির মানের সাথে যায় কিনা? যদি না যায় নিজের প্রতিভার প্রতি পক্ষপাত না করে এগুলো প্রফেশনাল কাউকে দিয়ে করানো ভালো। ওয়েবসাইটের বেলায়ও এই কথা সত্য। কাস্টমারদের কিন্তু অভিযোগ আমাদের দেশের ওয়েবসাইট দেখে পণ্য কেনার আগ্রহ বাড়ে না। যেমনটা বিদেশী সাইট দেখলে হয়। তাই বলছি নিজের প্রতি পক্ষপাত না করে নিজের শপের প্রতি পক্ষপাত করুন।

5কাস্টমারের সাথে আলাপ: প্রশ্নের জবাব প্রশ্ন দিয়ে নয়।

আপনারা যখন কাস্টমারের সাথে সরাসরি বা ফোনে কথা বলবেন, তখন কাস্টমার আপনাকে সরাসরি কোনো প্রশ্ন করতে পারে। যেমন এটার দাম কিছু কম রাখা যায়না? কখনো বাঁকা প্রশ্ন করতে পারে? আসলে ইকমার্সে তো বিশ্বাস নেই, আপনাদের বিশ্বাস করবো কিভাবে? আবার কখনো উল্টাপাল্টা বা আজব প্রশ্ন করতে পারে। মনে রাখবেন প্রশ্নের উত্তর প্রশ্ন দিয়ে নয়। আপনি যদি পাল্টা প্রশ্ন করেন, সবাইকে একরকম হয়? অথবা আপনি কেন এমন ধারণা করলেন? এ ধরনের প্রশ্ন না করে ইতিবাচক উত্তর দিন।

যেমন: আসলে স্যার পেশাদার ব্যবসায়ীরা কখনো অসৎ কৌশলে যান না। অথবা আমরা একটা সুনামখ্যাত প্রতিষ্ঠান, আপনি আস্থা রাখুন। এমনকি যদি তিনি কোন কালারের পণ্য চান এটাও জিজ্ঞেস করার প্রয়োজন হয়। সরাসরি প্রশ্নে না গিয়ে বলুন- আমাদের কাছে তো স্যার ৫টি কালার রয়েছে, আপনি আসলে …., হয়তো এতটুকু বরার পর তিনি তার কথা বলে ফেলবেন। মোট কথা হলো ইতিবাচক মানসিকতা বজায় রাখুন।

4আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে একটি ব্যক্তিসত্তা মনে করুন

আপনি যখন ব্যাংকে আপনার নিজের একাউন্টে টাকা রাখেন তখন ব্যাংকের সাথে আপনার একটা লেনদেন সংগঠিত হয়। টাকা উত্তোলন করলেও তাই হয়। আবার যখন আপনার একাউন্টে আপনার লাভের টাকা জমা হয়, তখনও তাই হয়। আপনি যখন ৫ লাখ টাকা দিয়ে ব্যবসায় শুরু করলেন। ধরি আপনার প্রতিষ্ঠানের নাম জামাইবাবু ডট কম তাহলে জামাইবাবু ডটকমকে আপনি ৫ লাখ টাকা দিলেন। মানে এখানে একটা লেনদেন হলো আপনাদের ২ জনের মধ্যে। এই টাকা জামাইবাবু ডট কম যখন আপনাকে ফেরত দেবে তখন আবার আরেকটা ট্রানজেকশন হবে। তাই আপনার আর আপনার ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যত লেনদেন হবে সব হিসাব পরিষ্কার রাখুন। নইলে পরে লাভ লোকসান বের করা কঠিন হয়ে যাবে।

3ব্রান্ড সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরী করুন শুরু থেকেই

আপনি যে মাপের ব্যবসাই করুন না কেন, আপনার নাম, লোগো, ম্যাটার ডিজাইন এমন হবে যাতে কাস্টমার আপনাকে একজন পেশাদার, রুচিশীল এবং মানসম্পন্ন ব্যবসায়ী মনে করে। শুরু থেকেই আপনার সব কিছুতে এই ভাবটা ধরে রাখুন। সেটা ভিজিটিং কার্ড, লিফলেট, ফেসবুক এড, অফিস প্যাড, খাম, আপনার প্যাকিং ম্যাটারিয়ালস মোটকথা সব কিছুতে। কারণ প্রথমেই আপনার সম্পর্কে যদি কাস্টমারের ধারণা দুর্বল নেতিবাচক বা ভালো না হয়। তাহলে এই চক্কর থেকে আপনি আর কখনো বের হতে পারবেন না। তাই গ্রাহকের চোখে আপনার ইমেজটা কি হবে, সেটা নিয়ে এখনি ভাবতে বসে যান।

2নিজেকে ক্রেতার জায়গায় ভাবুন আর ক্রেতার মন বোঝার চেষ্টা করুন

যেকোনো পণ্য বা সেবা অনলাইনে বিক্রয়ের জন্য নির্বাচনের আগে অবশ্যই একজন সিরিয়াস উদ্যোক্তা হিসেবে তা শুরু করবেন। শুরু করার আগে বাজারটা বোঝার জন্য আপনি নিজে একবার মনে মনে ক্রেতা হয়ে যান। তারপর ভাবুন আপনি নিজে যদি অনলাইন থেকে পণ্য ক্রয় করেন তবে কোনে পণ্যটি ক্রয় করবেন এবং তাতে কি সুবিধা থাকলে ক্রয় করবেন? আরো ভাবুন কিভাবে উপস্থাপন করলে আপনি নিজে আকৃষ্ট হবেন। এসব ভেবে আপনার প্লান ঠিক করুন। আপনি নিজেই যদি আকৃষ্ট না হোন তাহলে অন্যরা কেন আকৃষ্ট হবে বলুন? তাহলে শুরু করুন। এক দুই তিন পিইইইইইইইইপ।

1ই কমার্স কি কোনো ব্যবসা?

আর দশটি ব্যবসার মতোই ইকমার্সকেও একটি ব্যবসা হিসেবে নিন। এটি হালাল, পবিত্র ও অন্য কোন ব্যবসা থেকে এটি আলাদা নয়। অন্যান্য ব্যবসার সব কাজকর্ম যেমন কেনা-বেচা, লেনদেন, লাভ-লোকসান সবই এতে আছে, আছে বাড়তি কিছু কাজও। হয়তো এর কিছু সুবিধা রয়েছে এবং এটি প্রযুক্তিনির্ভর। সেজন্য এটা কারো জন্য সহজ, কারো জন্য কঠিন। তবে যদি আপনি ব্যবসা ও টেকনোলজি না বোঝেন তাহলে সহজ কথা ইকমার্স আপনার জন্য নয়।

SHARE
Jahangir Alam Shovon
২০০৫ থেকে ই-কমার্স এর উপর বিভিন্ন ধরনের কাজের সাথে যুক্ত আছি ও স্টাডি করছি। এই বিষয়ে বাংলা ভাষায় অনলাইনে আমার বহু লেখা প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও আমি লোকসাহিত্য, সাংবাদিকতা, ইসলাম, চলচ্চিত্র এসব বিষয়ে লিখি। বর্তমানে একটি বিদেশী চ্যারিটি সংস্থায় কর্মরত আছি।

মন্তব্য পোস্ট করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here