Homeদেশের ই-কমার্সমীর শাহেদ আলী ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ইসুফিয়ানা ডটকম

মীর শাহেদ আলী ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ইসুফিয়ানা ডটকম

বিশ্বজুড়ে ই-কমার্স ব্যবসা এখন বেশ জনপ্রিয়। ঘরে বসেই ক্রেতারা তাদের চাহিদা মতো যেকোনো পণ্যই পাচ্ছে খুব সহজেই। অনলাইনে এই কেনা-বেচার কাজটি অন্যান্য দেশে প্রায় বছর দশেক ধরেই বেশ জনপ্রিয়। কিন্তু বাংলাদেশে এই ব্যবসা শুরু হয়েছে মাত্র কয়েক বছর হলো। আর এই কয়েক বছরের মধ্যে বহু ই-কমার্স সাইট তৈরি হয়েছে। এসব ই-কমার্স ব্যবসায়িক সাইটের মধ্যে www.esufiana.com উল্লেখযোগ্য। ২০১৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি এই সাইটি চালু হয়। ই-কমার্স ব্যবসার বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেছেন ইসুফিয়ানা’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর শাহেদ আলী। তিনি জানান, ইসুফিয়ানায় এখন জুয়েলারি, কসমেটিক্স, পোশাক, প্রযুক্তি পণ্য, সানগ্লাস, শো-পিস, গিফট আইটেম, স্টেশনারি আইটে, বই, জেন্টস, লেডিস ও কিডস আইটেমসহ বহু ব্র্যান্ড-ওরিয়েন্টেড পণ্য পাওয়া যায়।

 

মীর শাহেদ আলী জানান, বিশ্বের অন্যান্য দেশে ই-কমার্স ব্যবসাটি বেশ জনপ্রিয় হলেও বাংলাদেশে সবেমাত্র আলোচিত হতে শুরু করেছে। তবে আগামীতে ই-কমার্স আমাদের দেশেও কেনা-বেচার প্রধান মাধ্যম হিসেবে গড়ে উঠবে। তিনি বলেন, ‘আমরা এখনও উন্নয়নশীল দেশ, উন্নত দেশের মানুষগুলো আমাদের চেয়ে আরও বেশি ব্যস্ত থাকে। আর এই ব্যস্ততার মাঝে ছোট্ট একটা জিনিস কেনার জন্য শপিং মলে গিয়ে এক থেকে দেড় ঘণ্টা ব্যয় করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। আর সেই পণ্যই তারা যেখানে খুশি সেখানে বসেই অর্ডার দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে পেয়ে যাচ্ছে। ই-কমার্সে আরও একটি মজার বিষয় হলো—এমন অনেক প্রোডাক্টই আছে, যার জন্য একটি শোরুম দেওয়ার প্রয়োজন হয় না, সেই প্রোডাক্টগুলো ই-কমার্স ব্যবসার মাধ্যমে সবার হাতের নাগালে এনে দেওয়া যায়। এসব দিক থেকে ই-কমার্স ব্যবসার মার্কেটটা অবশ্যই অনেক বড় হবে।’

 

ই-কমার্স ব্যবসা নিয়ে ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার এই ব্যবসা আমি শুধু দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে চাই না। এরইমধ্যে আমি দেশের সবকটি জেলায় পণ্য সরবরাহ শুরু করেছি। দেশের প্রায় সবকটি এলাকা থেকেই আমরা অর্ডার পেতে শুরু করেছি। দেশের বাইরে থেকেও অনেক অর্ডার পেয়েছি এবং যথাসময়ে তাদের কাছে পণ্য পাঠিয়ে দিয়েছি। আমার উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশিয় পণ্যগুলো এখন বাইরের বাজারে বিক্রি করা এবং বাইরের বাজারে এসব পণ্য জনপ্রিয় করে তোলা। আমরা সম্প্রতি ই-কমার্স ম্যানার্স মেলাতেও অংশ নিয়েছিলাম। এই মেলাতেও আমরা অত্যন্ত ইতিবাচক সাড়া পেয়েছি।’

 

অনেকের কাছেই হয়তো ই-কমার্স ব্যবসার নতুন নতুন কনসেপ্ট থাকে। কিন্তু কীভাবে এসব আইডিয়াকে বাস্তবে পরিণত করতে হয়, তা জানা থাকে না। অনেক সময় আর্থিক সমস্যা, আবার অনেক সময় ই-কমার্স ব্যবসার না জানা দিক নিয়ে থাকে শঙ্কা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন এই বিষয়ে কমপক্ষে চার থেকে পাঁচটি ফোন আসে। সামগ্রিকভাবেই আমাদের সীমাবদ্ধতা থাকে আর্থিক দিকে। তরুণরা কীভাবে ই-কমার্স ব্যবসা করবে এটা নিয়ে চিন্তায় পড়ে যায়। তবে তাদের জন্য আমি বলতে চাই, ই-কমার্স ব্যবসায় অন্যসব ব্যবসার মতো বড় ধরনের অর্থের জোগানের প্রয়োজন হয় না। অনলাইনে নিজের আইডিয়াকে সেভাবে সাজালে অবশ্যই এই ব্যবসা শুরু করতে পারবেন। তবে একটি সাইট তৈরি করে ফেসবুকে মার্কেটিং করাকেই ই-কমার্স ব্যবসার শুরু বলা যায় না। আপনার কাছ থেকে যদি ক্রেতা পণ্য নিয়ে সন্তুষ্ট না হয় পরবর্তীকালে সে আপনার সাইট থেকে পণ্য কিনবে না। ওই পণ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা আপনার থাকতে হবে এবং প্রকৃত ধারণাটুকু জানাতে হবে ক্রেতাদেরকেও। অনেকেই পণ্যের খুঁটিনাটি গোপন করে থাকে। এতে নিজের ব্যবসার ক্ষতির পাশাপাশি ই-কমার্স মার্কেটের সুনামও নষ্ট হয়।’

 

এখনকার তরুণরা ই-কমার্স ব্যবসা নিয়ে অত্যন্ত আগ্রহী। কিন্তু প্রযুক্তি যতটা এগিয়েছে, সেই হারে ই-কমার্স মার্কেটপ্লেসটি সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়নি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ই-কমার্স নিয়ে এখন অনেক ট্রেনিংও রয়েছে। তবে কেনাকাটার জায়গায় আমাদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। মাত্র কয়েকটি ক্রেডিট কার্ড আমরা ব্যবহার করতে পারি। পাশাপাশি ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার নিয়েও শঙ্কিত মানুষ। এর পাশাপাশি পণ্যটা মানুষ ধরে দেখতে চায়, একটা কাপড় কেনার আগে সে ওই কাপড়টাকে ধরে ভালো করে যাচাই করে নিতে চায়। অনলাইন মার্কেপপ্লেসে তো আর সেই কাপড়ের বিস্তারিত তথ্য থাকে না। তাই এই ব্যবসার মূল স্তম্ভ হচ্ছে আস্থা ও বিশ্বাস। ক্রেতাদের সেই আস্থার জায়গা বৃদ্ধি করতে পারলে অবশ্যই মার্কেটটা বাড়বে। এসব সীমাবদ্ধতাগুলো দূর করা প্রয়োজন আগে।’

 

এই পেশার কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি ২০০২ সাল থেকে কম্পিউটার সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত। আমার আইমেশ লিমিটেড থেকে যারা বেরিয়েছে, তাদের অধিকাংশই এখন ইসুফিয়ানাতে কাজ করছে। এখানে সবাই তরুণ। তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ হচ্ছে আমার এখানে। ঠিক একইভাবে এই ব্যবসার মার্কেট যত বাড়বে, এই পেশায় নতুনদের কর্মসংস্থানের সুযোগটাও ততই বৃদ্ধি পাবে।’
RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular