Homeমতামত ও সাক্ষাৎকারbdshop.com এর CEO জাকির হোসেন ভাই এর সাথে ই-কমার্স নিয়ে কিছু কথা

bdshop.com এর CEO জাকির হোসেন ভাই এর সাথে ই-কমার্স নিয়ে কিছু কথা

আমরা আজ কথা বলেছি bdshop.com এর CEO জাকির হোসেন ভাই এর সাথে, ই-কমার্সের বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা, ই-কমার্স বিজনেসে ওনার আগ্রহের কারণ ও বিডিশপ নিয়ে ওনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ইত্যাদি বিষয়ে।

ছোট বেলা থেকেই নতুন এর প্রতি ঝোঁক ছিল অনেক বেশি। সব শময়ই নতুন কিছু করতে ভালো লাগতো। ছাত্র জীবনে অনেক প্রজেক্ট করেছি আবার অনেক আইডিয়া এমন ছিল যে অনেকেই সেই আইডিয়া গুলকে স্বাভাবিক মেনে নিতে পারতো না। DUET (Dhaka University of Engineering & Technology) থেকে EEE (Electrical & Electronics Engineering) তে পাশ করে চাকরি জীবনে প্রবেশের প্রথমেই বেশ কয়েকবার জব চেঞ্জ করতে হয় শুধুমাত্র নিজের মত করে কিছু করার জায়গার অভাব থেকেই। তার পর ২০০৯ সালের প্রথম দিকে TwinMOS Technologies এর বাংলাদেশ ব্রাঞ্চ এ যোগ দেই এবং ৩ মাসের মাথায় TwinMOS এর HQ দুবাই তে ৬ মাসের একটি ট্রেনিং এ গিয়ে নানা কাজে প্রায় সাড়ে ৫ বছর কেটে যায়।

প্রায় ২ বছর ঐ সেকশন এ সফলতার সাথে অনেক নতুন প্রোডাক্ট ও প্রোজেক্ট সম্পন্ন করি। প্রতিটি প্রোডাক্টই ছিল একেকটি চ্যালেঞ্জ তাই খুব এনজয় করতাম।

EEE নিয়ে পড়া লেখা করলেও কিভাবে কিভাবে যেন অনলাইন এর প্রতি ঝোঁক ছিল আগে থেকেই। TwinMOS এ প্রথমে Hardware সেকশন এ থাকলেও খুব দ্রুতই Product Sourcing সেকশন এ শিফট হয়ে যাই এবং প্রায় ২ বছর ঐ সেকশন এ সফলতার সাথে অনেক নতুন প্রোডাক্ট ও প্রোজেক্ট সম্পন্ন করি। প্রতিটি প্রোডাক্টই ছিল একেকটি চ্যালেঞ্জ তাই খুব এনজয় করতাম। ২০১১ সালের শেষের দিকে আমরা আমাদের সকল প্রোডাক্ট অনলাইন এ কিভাবে সেল করা যায় তার একটি প্রোজেক্ট আমাকে দেয়া হয়। প্রথমে দুবাই এর লোকাল কিছু সাইট এবং এরপর ইন্টারন্যাশনাল কিছু সাইট যেমন eBay তেও সেল শুরু করি। যেহেতু ঐ সময় আমার নিজের Sourcing করা কিছু unique product ছিল আর আমরা নিজেরা নিজেদের ব্র্যান্ড এই সেল করতাম এর ফলে প্রথম মাসেই বেশ ভালো রেসপন্স পাই এবং এর পরে আর ফিরে তাকাতে হয়নি, সেটি মাসে মাসে বৃদ্ধি পেয়েছে লগারিদমিক হারে। মূলত সেখান থেকেই আমার নিজের দেশে নিজের মত করে নিজের অভিজ্ঞতা আর দেশের আরও কিছু সপ্নবাজ লোককে একত্রিত করে কাজে লাগাবার একটি স্বপ্ন দেখা শুরু করি এবং ২০১৪ সালের ১৪ মার্চ (আমার ছেলের জন্মের ঠিক ২ দিন আগে) bdshop.com নিয়ে যাত্রা শুরু করি Dubai থেকেই।

bdshop-homepage

ই-কমার্সে বিজনেসে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা কেমন বলে আপনি মনে করেন?

আমি ই-কমার্স এর সাথে প্রত্যক্ষ ভাবে জড়িত ২০১১ সাল থেকে আর প্রথম থেকেই আমি বাংলাদেশ সহ অনেক দেশেরই ই-কমার্স এর খোজ খবর নিয়মিত রাখার চেষ্টা করতাম। দুবাই থাকা অবস্থাতেই আমি বেশ কয়েকবার বাংলাদেশের বিভিন্ন সাইট এ অর্ডার করে আমার ফ্যামিলিতে ডেলিভারি নিয়েছি। তবে অবশ্যই বলবো আগের চাইতে বর্তমানে অনেক ইম্প্রফ করেছে বিশেষত Number of Customer বেড়েছে বেশ অনেকগুণ, সেই সাথে বেড়েছে অনলাইন সাইট এর সংখ্যাও। আগে হাতে গোনা মাত্র কয়েকটি সাইট ছিল আর এখন অনেকেই আসছে অনেক ভালো ভালো আইডিয়া ও সেবা নিয়ে। এখনো অনেক পথ বাকি। যদিও কোন সঠিক জরিপ নেই তার পরেও মোটামুটি আমাদের মোট জনসংখ্যার হয়ত ০.৫% লোক ও অনলাইন এ রেগুলার কেনা কাটা করছেন না। সেক্ষেত্রে উন্নত দেশগুলোতে সেই % অনেক বেশি। তাই বলবো আমরা ও আমাদের এই সেক্টর খুব দ্রুত এগুচ্ছে এবং অদূর ভবিষ্যতে এটি কয়েক বিলিয়ন ডলার এর ক্ষেত্র হবে বলে আমি মনে করি।

আপনাদের এই পর্যন্ত আস্তে কি কি বাধা বা ধাপ পার হতে হয়েছে?

বাঁধা বা প্রতিবন্ধকতার কথা বলতে গেলে হয়ত এর শেষ হবে না। তবে উল্লেখযোগ্য বাধার মধ্যে প্রথমেই আসে ডেলিভেরির কথা এর পর পেমেন্ট এবং সর্বশেষ কাস্টমদের বিশ্বাস অর্জন কথা। ডেলিভারি নিয়ে এখনও আমরা এর কোন খুব ভালো সমাধান করতে পারিনি। তবে অচিরেই আমাদের নিজেদের ডেলিভারি সিস্টেম চালু করার একটি প্ল্যান আছে। শুরুতে হয়ত ঢাকা সিটি দিয়ে শুরু করবো পরবর্তীতে সেটি আরও বিস্তৃত করা হবে। আর পেমেন্ট নিয়ে আমাদের এখন আমাদের তেমন খুব একটা সমস্যা নেই বললেই চলে, তবে আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে অনলাইনে পেমেন্ট কে আরও জনপ্রিয় করতে গেটওয়ে প্রোভাইডার সহ বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে যদি Transection Rate সহ আরও কিছু Initiative নেয়া হয় তাহলে আরও বেশি মানুষ অনলাইন এ পেমেন্ট করতে আগ্রহী হবে। এখন আমাদের www.bdshop.com এ সকল প্রকার লোকাল ও ইন্টারন্যাশনাল ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড সহ বিকাশ, কন্ডিশন ও ক্যাশ অন ডেলিভারি সিস্টেম চালু আছে।

এই প্রতিকুল পরিবেশ পার হতে আপনারা কারো সাহায্য পেয়েছেন?

আমরা বলবনা আমাদের পথ অনেক সুন্দর ছিল তবে অবশ্যই এই পথে চলতে চলতে দেখা হয়েছে অনেক মানুষের যাদের কথা না বললেই নয়। তার মধ্যে ই-ক্যাব প্রেসিডেন্ট রাজিব ভাই এর কথা সবার আগে আসে। এছাড়া আরও অনেকেই আছে যাদের কাছে আমরা বিডিশপ পরিবার সারাজীবন কৃতজ্ঞ থাকব। আর প্রতিষ্ঠান হিসেবে ই-ক্যাব আমাদের পাশে ছিল, আছে এবং আশা করি ভবিষ্যতেও থাকবে। অনেকের ছোট ছোট কথা ও সহযোগিতা আমাদের পথ চলাকে আরও গতিময় করেছে।

bdshop-Watch-banner

বিডিশপ তার কাস্টমদের কি কি বিশেষ সেবা দিয়ে থাকে?

আমরা প্রথম থেকেই শুধুমাত্র অরিজিনাল প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ শুরু করি। বাংলাদেশে নকল ও নিন্মমানের চাইনিস প্রোডাক্ট এ ভরে গেলেও আমরা বিশ্বাস করি কিছু লোক এখনও অরিজিনাল প্রোডাক্ট কিনতে আগ্রহী এবং তাদের হাতে ন্যায্য মূল্যে অরিজিনাল প্রোডাক্ট পৌঁছে দেয়াই আমাদের প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য। কাস্টমর দের সুবিধার কথা চিন্তা করে আমরা আমাদের সকল প্রোডাক্ট কাস্টমর চাইলে আমাদের অফিস থেকে দেখে নিতে পারেন। এর সাথে সাথে আমরা শুধু মাত্র ঢাকা নয় ঢাকার বাইরেও কিভাবে আমাদের সেবাকে পৌঁছে দেয়া যায় তার কথা চিন্তা করেই প্রথম পর্যায়ে টাঙ্গাইল সদরে (আমার হোম ডিসট্রিক্ট) আমাদের নিজস্ব শোরুম থেকেও যাতে প্রোডাক্ট দেখে নিতে পারে এবং সেক্ষেত্রে কোন ডেলিভারি চার্জ লাগবে না তার ব্যবস্থা করছি। এর বাইরে আমরা সকল প্রোডাক্ট এর জন্য ৭ দিনের ইজি রিটার্ন পলিসি অফার করে থাকি। যদি কোন প্রোডাক্ট এ manufacturing fault থেকে থাকে সেক্ষেত্রে ১০০% রিটার্ন বা এক্সচেঞ্জ অপশন পাচ্ছেন। এর বাইরে মাত্র ২০০০ টাকার কেনাকাটা করলেই ঢাকা সহ সারা দেশে ফ্রি ডেলিভারি পাচ্ছেন। তাছাড়া রেগুলার কাস্টমারা বিশেষ অফার ও ডিস্ককাউন্ট কুপন পেয়ে থাকেন এবং Corporate Client দের জন্য সকল কেনাকাটায় ১০% ছাড় এর ব্যবস্থা আছে।

বর্তমনে ডেলিভারি নিয়ে আপনারা কোন প্রবলেম ফেইস করছেন?

আমাদের প্রায় ৯৫% প্রোডাক্ট আমাদের নিজস্ব স্টক এ থাকে তাই অর্ডার আসার ৩০ মিনিটের মধ্যেই আমরা প্রোডাক্ট ডেলিভারির জন্য প্রস্তুত করে ফেলতে পারি। ঢাকার মধ্যে বর্তমানে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ডেলিভারি করে থাকি তবে বিশেষ প্রয়োজনে সেম ডে তে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টার মধ্যে এক্সপ্রেস ডেলিভারি অপশন আছে। এর পরেও ডেলিভারি বিষয়টি নিয়ে আমারা এখনও ঠিক আমাদের চাওয়ার মত করে উঠতে পারিনি তবে আমরা সবসময় ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই সারা দেশে ডেলিভারি করে থাকি এবং অচিরেই আমাদের নিজস্ব ডেলিভারি সিস্টেম আমরা শুরু করতে যাচ্ছি আসা করি তখন এই সমস্যা আরও কমে আসবে।

এখন পর্যন্ত বিডিশপের অবস্থানে আপনি কতটুকু সন্তুষ্ট?

আমরা যেহেতু শুরু করি অরিজিনাল প্রোডাক্ট নিয়ে এবং শুরু থেকেই এই ভেজালের বাজারে অরিজিনাল প্রোডাক্ট সেল করা একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ তার উপরে অনলাইন এ কিন্তু একটি বিষয় আমাকে সত্যিই মুগ্ধ করেছে যে, এই অল্প সময়ে আমরা ঢাকা সহ বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল সহ প্রায় প্রতিটি শহর থেকেই অর্ডার পেয়েছি এবং প্রতিদিন প্রচুর ফোন কল আসে যারা আমাদের প্রোডাক্ট ও সেবা সম্পর্কে জানতে চান আবার অনেকেই সরাসরি অফিস এ চলে আসেন। সব মিলিয়ে আমাদের প্রতিটি দিন নতুন নতুন অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে পার করছি।

bdshop offers

আপনাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?

ভবিষ্যতে আমাদের কার্যক্রম কে জোন হিসেবে ভাগ করে বা শাখা অফিস এর মাধ্যমে সারা দেশে এবং আরও বড় পরিসরে করার প্ল্যান আছে। এর বাইরে আমাদের আরও একটি প্রজেক্ট আছে www.jamdani.com যেখানে আমরা আমাদের ঐতিহ্যবাহী জামদানী ও তাঁত শাড়ি নিয়ে আমাদের আমরা ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করেছি। আমরা চাই দেশে ও বিদেশে আমাদের প্রবাসী ভাই-বোনেরা যাতে দূরে থেকেও দেশে তার পরিবারের আরও কাছে থাকতে পারে। বিভিন্ন উৎসবে ও অনুষ্ঠানে আমাদের মাধ্যমে পণ্য ডেলিভারি নিতে পারে তার ব্যবস্থা করা। সর্বোপরি ই-কমার্স এর মাধ্যমে আমাদের সেবা দেশে ও বিদেশে ছড়িয়ে দেয়াই আমাদের উদ্দেশ্য।

নতুন উদ্যোক্তাদের উদ্দ্যেশে আপনার কি পরামর্শ?

ই-কমার্স একটি আধুনিক বিজনেস মডেল যার মাধ্যমে সঠিক বিজনেস প্ল্যান, অভিজ্ঞতা, কাজের প্রতি একাগ্রতা ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে আপনার উৎপাদিত পণ্য বা সেবাকে সহজেই কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া সম্ভব আর এটি শুরু হতে পারে আপনার পড়ার টেবিল থেকেই। যারা এই সেক্টর এ কাজ করতে আগ্রহী তাদের উদ্দেশে বলবো নিজে প্রোডাক্ট সেল শুরু করতে হবে এমনটি নয়, এই বিজনেস এর সাথে অনেক বিষয়ই জড়িত যেমন প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফি, গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন, ডেলিভারি ও লজিস্টিকস, কন্টেন্ট রাইটিং, এসইও সহ আরও অনেক কিছু তাই আপনার যে বিষয়ে অভিজ্ঞতা ও Interest আছে সেটি নিয়েই কাজ শুর করতে পারেন।

ecomvoice এর এই উদ্যোগ নিয়ে আপনার অনুভূতি কি?

Ecomvoice.com যেহেতু প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মূলত ই-কমার্স ও তার রিলেটেড বিষয়ে সংবাদ ও তথ্য প্রদানের জন্য তাই আমি অবশ্যই অনেক সাধুবাদ জানাই এমন একটি মহৎ উদ্যোগের জন্য। শত শত অনলাইন নিউজ পোর্টালের মধ্যে Ecomvoice যেহেতু একটি নির্দিষ্ট সেক্টর নিয়ে কাজ শুরু করেছে তাই আমি Ecomvoice সার্বিক সাফল্য কামনা করি এবং বিডিশপ পরিবারের পক্ষ থেকে অনেক অনেক শুভ কামনা থাকলো।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular