Homeইকমার্স জ্ঞানই-কমার্স মানে কি শুধু ফেইসবুকে পেইজ খোলে ছবি আপলোড করা!

ই-কমার্স মানে কি শুধু ফেইসবুকে পেইজ খোলে ছবি আপলোড করা!

সোহেল মৃধা // ই-কমার্স বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এক উদীয়মান বিজনেস সেক্টর যার সুবর্ণ সময় এখনই। অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এর  অবদান হবে বিশাল তা বলার অপেক্ষা রাখে না। একই সাথে বেকার তরুণদের কর্মসংস্থান ও অর্থ উপার্জনের এক যুগোপযোগী ক্ষেত্রও হবে এই ই-কমার্স। কিন্তু তরুণদের মাঝে একটা ভুল ধারণা রয়েছে যে, ফেসবুকে একটা পেইজ খুলে তাতে কিছু প্রোডাক্টের ছবি আপলোড করলে ও কিছু টাকা খরচ করে এড দিলেই প্রচুর সেল হবে ও এভাবেই তিনি খুব সহজে ই-কমার্স শুরু করে রাতারাতি অনেক বড়লোক হতে পারবেন। কিন্তু বাস্তব চিত্র আসলে ভিন্ন। এভাবে হয়তো ক্ষণিকের জন্য ই-কমার্স ( যেটা আসলে f-Commerce) শুরু করা যায়, কিন্তু এর সাথে জড়িত আরো শত শত বিষয় জানা না থাকলে তা টিকিয়ে রাখা অসম্ভব। আর এই সকল বিষয়গুলোই একজন অনলাইন বিক্রেতা বা উদ্যোক্তার ভালভাবে জানা উচিত।

তরুণদের মাঝে একটা ভুল ধারণা রয়েছে যে, ফেসবুকে একটা পেইজ খুলে তাতে কিছু প্রোডাক্টের ছবি আপলোড করলে ও কিছু টাকা খরচ করে এড দিলেই প্রচুর সেল হবে ও এভাবেই তিনি খুব সহজে ই-কমার্স শুরু করে রাতারাতি অনেক বড়লোক পারবেন। কিন্তু বাস্তব চিত্র আসলে ভিন্ন।

ই-কমার্স ব্যবসার ক্ষেত্রটা আসলে অনেক বড়। বাহ্যিক দৃষ্টিতে পণ্য বা সেবা কেনা-বেচাই মূল কথা হলেও এর সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও আনুষাঙ্গিক ব্যাকএন্ড কাজও প্রচুর। যেমন- ডোমেইন রেজিস্ট্রেশন ও হোস্টিং, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, বিজনেস প্ল্যানিং, এসইও, পণ্যের ফটোগ্রাফি, গ্রাফিক্স ডিজাইন, পণ্যের ডেসক্রিপশন বা কন্টেন্ট রাইটিং, ফেইসবুক মার্কেটিং, ই-মেইল মার্কেটিং, পণ্যের সাপ্লাই, অফিস ম্যানেজমেন্ট, অফিস ম্যাটারিয়ালস, প্যাকেজিং, কাস্টমার কেয়ার, ট্রান্সপোর্টেশন/ভেহিকাল, ডেলিভারি/কুরিয়ার সিস্টেম, পেমেন্ট গেটওয়ে, লিগ্যাল সাপোর্ট ইত্যাদি। এসবের বাইরেও আরও অনেক বিষয় কিন্তু ই-কমার্স ব্যবসার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং কোনটাই বাদ দিয়ে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।

আরও পড়ুনঃ সাবধান, লাভের সাথে আছে লোকসান!

ই-কমার্স সেক্টরে যে সকল নতুন উদ্যোক্তারা আসবেন তাঁরা শুধুই পণ্য বিক্রি করার মানুষিকতা না নিয়ে, ব্যাকএন্ডের এই সকল সার্ভিস পার্টগুলো নিয়েও বিজনেসে আসার চিন্তা করতে পারেন। কারণ ই-কমার্সে বিক্রেতার সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে সেভাবে সেবা প্রদানকারী কোম্পানির সংখ্যা বাড়ছে না, আর বাড়লেও দক্ষ সেবা প্রদানকারীর সংখ্যা খুবই কম। তাই যারা এই ধরনের সার্ভিসগুলো দিয়ে থাকেন তাদের উচিত এইদিকে বিশেষ দৃষ্টি দেয়া।

এই বিষয়ে ই-ক্যাব প্রেসিডেন্ট রাজিব আহমেদ বলেন, “আমরা শুরু থেকেই ই-কমার্সের সকল উদ্যোক্তাদের স্কিল ডেভেলপমেন্ট এর দিকে গুরুত্ব দিয়ে আসছি ও প্রতি মাসে একটি ওয়ার্কশপের আয়োজন করেছি। বাংলাদেশে ই-কমার্সের উপর উচ্চশিক্ষার কোন সুযোগ নেই ও এই ব্যাপারে আমরা বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর সাথে  কথা বলেছি বিভিন্ন কোর্স চালুর জন্য। আর ই-ক্যাব থকে সামনে আরো বেশ কিছু ওয়ার্কশপ করা হবে যার মাধ্যমে সবাইকে ট্রেনিং দেয়া হবে। তাছাড়া পণ্য বিক্রেতা ও সেবা প্রদানকারী কোম্পানিগুলোর মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করা, গ্রাহক পর্যায়ে আস্থা বৃদ্ধি করা ইত্যাদি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি।”

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular