Homeঅন্যান্যভ্রমণ কাহিনী : তেঁতুলিয়ার ধুলিওড়ানো রাঙা পথে

ভ্রমণ কাহিনী : তেঁতুলিয়ার ধুলিওড়ানো রাঙা পথে

জাহাঙ্গীর আলম শোভন // তেঁতুলিয়ার পর্যটন আকর্ষণ মূলত তিনটি: সর্বউত্তরের সীমান্তিক অবস্থান, সমতলভূমির চা বাগান আর মহানন্দা নদী। ব্যবসায়িক আর্কষণ হলো কৃষি, পাথর আর চা। ভারতের শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়ি থেকে আনা পাথর আর পথের পাশে পাথর ভাঙার নানা কায় কারবার তেঁতুলিয়ার পরিচয়কে নতুন করে তুলে ধরবে। পাথর অবশ্য মহানন্দা নদী থেকে স্থানীয় লোকেরা তোলে, ভাটির টানে ছোট ছোট নুড়িগুলো ভেসে আসে পানিতে আর সেগুলো স্থানীয় লোকেরা মাটি ছেঁকে তুলে সের মাপে বেঁচে দেয়। এখানে উৎপাদিত সমতলভূমির চা বাগান হলো চা চাষে সফলতার একটা নমুনা।

Gariyalপথ চলতে চলতে দেখা পেয়ে যেতে পারেন এরকম গাড়িয়াল ভাইদের। ছবি: জাহাঙ্গীর আলম শোভন

উত্তরের রুক্ষতার অনেকটাই আজকাল কমে গেছে সেচ-ভিত্তিক কৃষি নতুন নতুন আবাদের কারণে। সূতরাং যারা গতানুগতিকতার বাইরে একটু আমেজ নিতে চান তাদের জন্য তেতুলিয়া মন্দ নয় মোটেও।

Tea-garden তেতুলিয়ায় সমতল ভূমির চা বাগান। ছবি: রুহুল কুদ্দুছ ছোটন

তেতুলিয়ায় ঘুরে দেখার জন্য অবশ্যই দিনের বেলাই ভালো। রাতে এখানে নিরবতাই সঙ্গী। এজন্য দলবেঁধে ভ্রমণে আসলে ভালো জমতে পারে। উত্তরাঞ্চলের প্রাকৃতিক রুক্ষতার কারণে খুব শীত কিংবা গরমে না আসাই ভালো। এখানে আসার ভালো সময় হলো মধ্য অক্টোবর থেকে নভেম্বর আর মধ্য জানুয়ারী থেকে ফ্রেব্রুয়ারী। রাস্তাঘাট আগের তুলনায় এখন বেশ ভালোই। নিরাপত্তার দিক থেকেও ঝুঁকির কিছু নেই। শীতে আসতে চাইলে শীতের কাপড় আনতে ভুলবেন না।

Pathor-banggaদিন দিন এখানে পাথরভাঙ্গা শিল্প বিকশিত হচ্ছে আর নারী পুরুষের শ্রমে গড়ে উঠছে এখানকার অর্থনীতির বুনিয়াদ। ছবি: জাহাঙ্গীর আলম শোভন

সকালে ঘুরে আসুন সর্ব উত্তরের সীমান্ত জিরোপয়েন্ট থেকে। তার আগে মহানন্দা নদীর তীরে সকালের হাঁটাটা সেরে নিতে পারেন। মহানন্দা নদী তেতুলিয়া শহর থেকে এক কিলোমিটারের কম। নদীর পাড়ে ভ্রমণের সময় একটু সতর্ক থাকতে হবে কারণ নদী কিন্তু ভারতের মধ্যে পড়েছে। নেহায়েত নদীর উপর কাটা তারের বেড়া দেয়া যায়না বলে বেড়াটা নদীর ওপারে কিন্তু ভারতীয় সীমানা ফিলার নদীর এ পাশেই, অবশ্য এটা অল্প কিছু জায়গাজুড়ে। আর চা বাগান তো আছেই যা আপনার নয়নসুখ কিছুটা হলেও স্বার্থক করবে। একটু দুরে গেলে শিলিগুড়ি ব্রিজটাও দেখে আসা যায়। দুপুরে আপনার জন্য ভালো হবে গ্রাম দেখা। আর পিকনিক পার্টির জন্য এখানে জেলা পরিষদ ডাক বাংলোর সামনে ব্যবস্থা রয়েছে। চাইলে এখানে লারকি ও অন্যান্য আয়োজন করে রান্নাও করা যায়। বিকেলে মহানন্দা নদী আর এ সূর্যাস্ত দুটোই আপনার ভালো লাগবে।

Picnicশীত মৌসুমে লোকেরা এখানে হরদম আসে শিক্ষা সফর আর পিকনিকে। ছবি: জাহাঙ্গীর আলম শোভন

তেতুলিয়া উপজেলা শহর, অনেক সুবিধা এখানে নেই। দুইটি ছোট আবাসিক হোটেল রয়েছে খুব সাধারণ মানের হোটেল অতসী ও হোটেল সীমান্ত। অতশী নতুন তাই একটু চকচকে। সীমান্ত টিনশেড কিন্তু একটু ভাবসাব আছে ফলস সিলিং ও সামনে বাগান, আছে নিজেদের কিচেনও অবশ্য লারকি চুলার।

Sunমহানন্দা নদীর তীরে এমন সূর্যাস্ত প্রতিদিন আপনার অপেক্ষায়। ছবি: জাহাঙ্গীর আলম শোভন

জেলা পরিষদের একটি ডাকবাংলো রয়েছে অনুমতি নিয়ে এখানেও থাকা যায় তবে এটা মোটামোটি আধুনিক এসি ছাড়া সব সুবিধা আছে এতে। একেবারে ছোট কাছারী বাড়ীর মতো একটি বাংলো আছে বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট এর কাছেও। মাত্র ২টি কক্ষ আছে এতে। এটাও কোনও কারণে বুকড না থাকলে মিলে যেতে পারে।

Robikutirমহানন্দা নদী আপনাকে রবীঠাকুরের ছোটনদী কবিতাটা মনে করিয়ে দেবে। ছবি: জাহাঙ্গীর আলম শোভন

এখানকার বাজারে মাছ মাংস শাক সবজি পাবেন, বাজার করে দিলে একটু খোজ খবর নিয়ে ২/৪ জনের টিম হলে কারো বাড়ীতেও হতে পারেন এক বেলার পেইং গেষ্ট। কিছু স্পেশাল খাবার আছে খোরমা ও সন্দেশ। সকালের বাজারে তাজা দুধ পাবেন শীতে আসলে পেয়ে যাবেন কাচা খেজুরের তাজা রস।

tetuliya
তেঁতুলিয়ার এমন রাঙামাটি দেখে হয়তো বলবেন রবী ঠাকুরের গানের কলি। ছবি: রুহুল কুদ্দুছ ছোটন

তেতুলিয়ার পথে পথে প্রচুর ধুলা তাই মাস্ক নিয়ে যেতে ভুলবেন না। কারণ রাস্তার দুপাশে সারাক্ষণ চলছে পাথর ভাঙা। পথে পথে ধান গম ভূট্টা আখ ও চা এর পাশাপাশি পেয়ে যেতে পারেন সরিষার ঘানি। এখানে চা খেতে ভালো লাগবে এমনকি রাস্তার ধারে হলেও কারণ এখানে পানি খুবই সুস্বাদু আর বেশীর ভাগই গরুর দুধের চা। পথে নজরুল ও রবীন্দ্রনাথে দুটি ম্যুরাল চিত্রও আপনাকে টানবে অন্তত সেলফি তোলার জন্য।

Maskবুড়িমুটকি বাইপাসে কবি নজরুলের ম্যুরাল। ছবি:জাহাঙ্গীর আলম শোভন

ঢাকা থেকে যেতে হলে নাবিল বা অন্যকোনো পরিবহনে যেতে হবে পঞ্চগড় পর্যন্ত। সেখান থেকে তেতুলিয়া আবার লোকাল বাসে। তেতুলিয়া থেকে বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট ১৮ কিলোমিটার। এটা আবার অন্যকোনো বাহনের সাহায্য নিতে হবে। ভ্যান কিংবা অটো।

Bangla তেঁতুলিয়ার আধুনিক ডাকবাংলো। ছবি: রুহুল কুদ্দুছ ছোটন

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular