Homeআন্তর্জাতিকআমার ব্যবসার প্রথমবছরের সংকটপূর্ণ সময়গুলো

আমার ব্যবসার প্রথমবছরের সংকটপূর্ণ সময়গুলো

সারাহ ভারমান্ট একজন উদ্যোক্তা। তিনি ক্যারিয়ারগাসম [Careergasm] নামে একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা। একজন ক্যারিয়ার প্রশিক্ষক এবং উদ্যোক্তা হিসাবে তিনি সবসময় মানুষকে আনন্দের সাথে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করতেন। অপছন্দের কাজ করতে নিরুৎসাহিত করতেন। তিনি তার কাজের মাধ্যমে এই অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। তিনি এই লেখায় তার ব্যবসায়ের প্রথম দিনগুলোর সংকটময় মুহুর্তগুলোর কথা তুলে ধরেছেন।

উদ্যোক্তা শব্দটি শুনতে যতটা মিষ্টি কিন্তু এটা ঠিক ততটাই চ্যালেঞ্জিং কাজ। ব্যবসার প্রথম বছরে এটা বলা যাবে না যে আমার ব্যবসা একবারে ভালোভাবে চলছে। একটি ব্যবসাকে দাড় করানো সত্যিই কঠিন চ্যালেঞ্জের। আর কখনো কখনো তা কঠিন পরিশ্রমেরও।

১.আমি যতটুকু আশা করেছিলাম তার থেকে বেশি প্রশাসনিক ঝামেলা ছিল

ব্যবসার প্রথম বছরে আমি লাভের আশা করিনি। আমি নিজেকে তৈরি করতে প্রচুর সময় দিয়েছি। যেমন: ৪০টি ব্লগ পোস্টে কিভাবে লিখতে হয় সেজন্য দিনে ১০ ঘণ্টা সময় ব্যয় করেছি। [যা এখন আমি ঘুমের মধ্যেও করতে পারি।] আমি ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে প্রশংসাপত্র নিয়ে সেগুলো আমার পেজে পোস্ট করতাম। একটি অনলাইন কোর্স কিভাবে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে হয় তা অনলাইনে শেখার চেষ্টা করতাম। এসব কাজে আমার অনেক সময় চলে যেত।

২.আমি প্রায়ই আমার কম্পিউটারের সামনে বসেই দুপুরের খাওয়া খেতাম

অধিকাংশ দিনই আমি আমার ম্যাকবুকের সামনে বসে লাঞ্চ করতাম। নয়তো ক্লায়েন্ট সেশনের ফাকে কিছু খেয়ে নিতাম। এটা স্বাস্থ্যকর অভ্যাস ছিল না। আমি এটা করতাম সময়ের অভাবের কারণে। কোন কিছুর প্রকাশনা অথবা কোন প্রোগ্রাম তৈরির কাজে এতটাই নিমগ্ন থাকতাম যে খাওয়ার বিষয়টা খুব অবহেলা করতাম। আমি স্বাস্থ্য নিয়ে কখনোই তেমন ভাবতাম না।

৩. আমি ১০ পাউন্ড অর্জন করলাম

শুরুতে আমার স্বাস্থ্য তেমন খারাপ ছিল না। কিন্তু ধীরে ধীরে কিছু বদ অভ্যাসের কারণে আমার স্বাস্থ্য ভেঙ্গে পড়লো। কম্পিউটারের সামনে বাঁকা হয়ে বসে খাওয়া, সকালে নাস্তা না করা। যথেষ্ট চলাফেরা না করা এবং যতক্ষণ পর্যন্ত না প্রচণ্ড ক্ষুধার্ত হতাম ততক্ষণ রাতের খাবার খেতাম না। এরকম আরও নানা অনিয়ম করতে লাগলাম। যদিও এসব অনিয়ম ছিল উদ্যোক্তাদের জন্য সাধারণ বিষয়। আমি শরীর স্বাস্থ্য সবকিছু তুচ্ছ করে কাজে আত্মনিয়োগ করলাম। কেন এটা করলাম? এটা সঠিক ছিল না। আমি অল্পদিনেই অর্ধেক ওজন হারিয়ে ফেললাম। এরপর আমি স্বাস্থসম্মত অভ্যাস আয়ত্ত করার চেষ্টা করতে লাগলাম কিন্তু এটা খুব কঠিন কাজ ছিল।

৪. আমি কিছু ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম

আমি আমার ব্যক্তিগত ব্র্যান্ড তৈরির জন্য সংগ্রাম করছিলাম। মানুষ কি চায় এটা বোঝার জন্য আমাকে অনেক সময় ব্যয় করতে হয়েছে। অনেক ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। মায়া এনেগলু বলেছিলেন, ‘যখন তুমি কোন বিষয়ে ভাল জানবে তখন তুমি ভাল কাজ করবে। নিজের ভুলগুলো ধরতে পারলে পরবর্তীতে আর সেসব ভুল হবে না’। এটা আমার জন্য চরমসত্য এবং আমি এখনও অনেক কিছু শিখছি।

৫. আমার অনেক সাহায্য দরকার ছিল

ব্যবসার প্রথম বছরে আমি আমার অনলাইন কোর্সের প্রথম ভিডিও তৈরি করলাম। তবে এসব কাজ করার জন্য আমার প্রযুক্তিগত জ্ঞান ছিল একবারে শুন্য। এজন্য আমি সাহায্য চাইলাম। কিন্তু কারো সহযোগিতা পাওয়া খুব কঠিন ছিল। ভিডিও তৈরি বা অনলাইন কোর্স পরিচালনা কোনটাতেই আমার তেমন দক্ষতা ছিল না। তবে আমি যতটুকু জানতাম তা আমাকে আরও জানতে উদ্বুদ্ধ করলো। এটা অনেক মূল্যবান কাজ ছিল।

৬. আমি ক্রমাগত একই কাজ করতে থাকি

আমার প্রথম ভিডিওতে আমার কণ্ঠ ছিল একেবারে একটি কর্পোরেট রোবটের মতো। আমি সেটা কমপক্ষে পাঁচবার রেকর্ড করিয়েছি। নিবন্ধ এবং ব্লগ পোস্টগুলো আমি বার বার লিখতাম। বিক্রয় পেজে লিখে সোশ্যাল মিডিয়ায় তা পরীক্ষামূলক ভাবে দিতাম। আমি প্রায় আগের প্রোগাম বাতিল করে নতুন করে প্রোগ্রাম তৈরি করতাম। প্রচুর পরীক্ষা নিরীক্ষা করতাম।

৭. আমি বেশিরভাগ সময় আতঙ্কগ্রস্ত থাকতাম

নতুন পণ্যের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া, কাজের প্রচার, ক্লায়েন্ট খোজা, নিজের চিন্তা ভাবনা অন্যের সাথে শেয়ার করা, সাহায্য চাওয়া এসব কাজ নিয়ে শুরুর দিকে খুব অসহায় বোধ করতাম।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular